মোঃ আল আমিন, মালদ্বীপ প্রতিনিধি >>> ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ। একই সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা কূটনীতি, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত হয়েছে দুই দেশ।বুধবার (২২ জুলাই) মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম দেশটির প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী হাসান রশীদ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক আস্থা এবং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।বৈঠকের শুরুতে মালদ্বীপের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ২০০৪ সালের ভয়াবহ ভারত মহাসাগরীয় সুনামির সময় বাংলাদেশের মানবিক সহায়তার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সেই দুর্যোগময় সময়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুসংহত করেছে।মন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মালদ্বীপকে সামরিক যানবাহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও গভীর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।জবাবে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ উভয়ই ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রাষ্ট্র। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই।বৈঠকে সামরিক শিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। হাইকমিশনার জানান, মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (MNDF)-এর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা বাংলাদেশের বিভিন্ন সামরিক প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ ও উচ্চতর পেশাগত শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। এসব প্রশিক্ষণ দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, পেশাগত দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।উভয় পক্ষ মালদ্বীপের সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য বাংলাদেশে পেশাগত কোর্স, স্টাফ প্রশিক্ষণ, বিশেষায়িত কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং উচ্চতর সামরিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক মান ও পেশাগত সুনামের প্রশংসা করেন তারা।আলোচনায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, সামরিক লজিস্টিকস এবং কারিগরি সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও উঠে আসে। হাইকমিশনার বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতার কথা তুলে ধরে এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যৌথ উদ্যোগ জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ। তারা বলেন, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিস্থাপকতা, মানবিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও সুসংহত করবে।সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি সামরিক সহযোগিতা, পেশাগত বিনিময় এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।