সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি >>> একের পর এক জনপ্রিয় গান লিখে ব্যাপক সাড়া ফেলছেন সুনামগঞ্জের তরুণ গীতিকার ও সুরকার মনসুর সানী। নিত্য নতুন গান উপহার দিয়ে চমকে দিচ্ছেন শ্রোতাদের। তার লেখা গানগুলো মুক্তি পাওয়ার পর পরই মূহুর্তেই ভাইরাল হচ্ছে ইউটিউভ, টিকটক ও ফেইসবুকে। এতে ধীরে ধীরে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন তরুণ এ গীতিকার।সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার ইউনিয়নের সুজাতপুর গ্রামের কৃতি সন্তান মনসুর সানী। ফোক এবং আধুনিক গানের উদীয়মান গীতিকার ও সুরকার হিসাবে ইতিমধ্যে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। একজন গীতিকার হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর তার দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটে বাংলার ফোক গানের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী লায়লা’র গাওয়া “পিরীত হইলো মনের ক্যন্সার” গানটির মাধ্যমে। এই গানটি মুক্তি পাওয়ার পর ইউটিউভ, টিকটক, ফেইসবুকে ব্যাপক সাড়া ফেলে। শ্রোতাদের মনে সহজেই জায়গা করে নেন তরুণ গীতিকার মনসুর সানী। এর পর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।বর্তমানে দীর্ঘ বছর ধরে ইউরোপের দেশ ইতালিতে বসবাস করলেও দেশের মাটি ও মানুষের টানে গান রচনা করছেন তিনি। এসব গান লিখার মাধ্যমে তিনি সিলেট-সুনামগঞ্জের লোকজ সংস্কৃতি, বাউল ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ জীবনের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলছেন। ফলে এসব গান সহজেই জায়গা করে নিচ্ছে শ্রোতাদের মনে।ছোট বেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি তার গান লেখার আগ্রহ ছিলো অনেক। শৈশবে সুজাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের শুরু। তখন থেকেই গানের প্রতি দুর্বলতা ছিলো তার। মেধাবী ও সৃজনশীল এ গীতিকারের প্রথম গান লিখা শুরু হয় ২০১৪ সালে। সেই যাদুটা আমারে শিখাও গানটির মাধ্যমে শুরু হয় তার গান লিখার যাত্রা। কন্ঠশিল্পী আকাশ মাহমুদ ও লায়লা গানটি পরিবেশন করে। ২০১৭ সালে প্রবাসে পাড়ি জমালেও থেমে যায় নি তার গান লেখা। একের পর জনপ্রিয় গান লিখে শ্রোতাদের উপহার দিচ্ছেন তিনি। সেই সাথে বাংলার সঙ্গীতাঙ্গনে নিজের অবস্থান আরো শক্ত করে নিচ্ছেন।সম্প্রতী তার লেখা নতুন লোকগান “শুনাবো বাউলা গান খাওয়াবো সিলোটি পান” প্রকাশের পর থেকেই শ্রোতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আইকে মিউজিক স্টেশনের ব্যানারে প্রকাশিত গানটিতে সিলেট-সুনামগঞ্জের লোকজ সংস্কৃতি, বাউল ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ জীবনের সৌন্দর্য্য ফুটিয়ে তোলেছেন। তরুণ এ গীতিকারের লেখা গানটিতে সুর করেছেন আকরাম খান এবং কণ্ঠ দিয়েছেন পাপিয়া সরকার, মুন্নী সরকার ও মরিয়ম ইসলাম। ইউটিউভ, টিকটক ও ফেইসবুকে রীতিমতো গানটি ঝড় তোলেছে। সিলেটসহ দেশব্যাপী শ্রোতাদের হৃদয়ে এ গানটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। এতে বেশ সমাদৃত ও পরিচিত হয়ে উঠছেন উদীয়মান এ গীতিকার। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার মানুষ যখন জানতে পারে গানটির লেখক সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা তখন থেকে তাদের মনে এক ধরনের উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তরুণ এ গীতিকার নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন হাওরের জেলার মানুষরা।তবে শুধু এই গানই নয়, এর আগেও তার লেখা একাধিক গান শ্রোতাদের মন জয় করেছে। আমার কাজলা পাখিরে, কেউ প্রেম কইরোনা কারো প্রেমে মইজনা, পঙ্খিরাজ ঘোড়া, ভাব জমাইছে, একটা ভুল কইরাছি আমি, আমি এক বেহায়া পাখি, তুমি আমার প্রাণ পাখিসহ আরও বেশ কিছু গান ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বিভিন্ন জনপ্রিয় শিল্পীর কণ্ঠে তার লেখা গান প্রকাশের মাধ্যমে তিনি সংগীতাঙ্গনে একজন সম্ভাবনাময় গীতিকার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।বাংলা লোকগানের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ধারাবাহিকভাবে নতুন নতুন গান নিয়ে আসছেন এই গীতিকার। তবে শুধু গান লিখাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন নি তিনি। গান গাওয়াতে পিছিয়ে নেই এ গীতিকার। দেশের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাভাষীদের কাছেও তার গান সমানভাবে সমাদৃত হচ্ছে। সংগীতপ্রেমীদের বিশ্বাস, তার ধারাবাহিক সৃষ্টি ভবিষ্যতে বাংলা গানের ভা-ারকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং একজন সফল গীতিকার হিসেবে তিনি আরও সুদূর এগিয়ে যাবেন।