সরওয়ার কামাল কক্সবাজার -২২ জুলাই >>> মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ১ হাজার ৪৭২ পিস ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।২১ জুলাই গভীর রাতে পরিচালিত এ অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হওয়ায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় নৌপথ ব্যবহার করে মাদক পাচার চক্রের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।পুলিশ জানায়, মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সোলতানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় কালারমারছড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রাজু আহমেদ গাজীর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স হোয়ানক ইউনিয়নের পদ্মাপুকুর পাড় এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।অভিযানের একপর্যায়ে কালারমারছড়া ইউনিয়নের আঁধারঘোনা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কবির আহম্মদের ছেলে রিপন (৩২)-কে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে কালো রঙের পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১ হাজার ৪৭২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে পুলিশ।পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের দাবি, আটক রিপনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ ছিল। তারা জানান, বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা সংগ্রহ করে স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রির সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন বলে এলাকায় প্রচলিত অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আটক রিপন বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সোলতান বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। মহেশখালীকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না।”এদিকে কালারমারছড়া পুলিশ ক্যাম্পের ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযানের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের ফলে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির প্রবণতা কিছুটা কমেছে। তবে শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদকের অর্থদাতা, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী এবং নেপথ্যের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পারলে মাদক নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।স্থানীয়দের মতে, মহেশখালী ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। তাই উপকূলীয় নৌপথে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি।