এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম >>> টানা অতি বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি ও কনটেইনার ইয়ার্ডে পানি জমে তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামালসহ রপ্তানিযোগ্য বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হয়েছে। এতে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিপূরণ ও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের টানা অতি ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন কনটেইনার ইয়ার্ডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে কনটেইনারের নিচের স্তরে সংরক্ষিত সুতা, কাপড়, তুলা, ডাইং কেমিক্যালসহ তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন কাঁচামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি কিছু রপ্তানিযোগ্য প্রস্তুত পণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। স্বাভাবিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে দৈনিক ৯ থেকে ১১ হাজার টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হলেও অতিবৃষ্টির সময় তা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয় এবং শিল্পকারখানায় কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, জলাবদ্ধতায় পণ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক সংকট ও কনটেইনার খালাসে বিলম্বের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে দেশের রপ্তানি খাতও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।অন্যদিকে, বৃষ্টি চলাকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালকের স্বাক্ষরে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, টানা বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে বন্দরে সংরক্ষিত পণ্য, কার্গো ও কনটেইনারের কোনো ক্ষয়ক্ষতির দায় তারা বহন করবে না। বন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এটি ‘অ্যাক্ট অব গড’ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঘটনা হওয়ায় এ ধরনের ক্ষতির দায় তাদের ওপর বর্তায় না।তবে ব্যবসায়ীরা এই অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা নিরসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বন্দর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বন্দরের ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।