মিজানুর রহমান বিশেষ প্রতিনিধি, ফরিদপুর >>> ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের শুয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন।এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসসহ মোট ৪টি বাস ও একটি পিকআপে আগুন ধরিয়ে দিলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫ টার সময় খুলনামুখী একটি ডিমবোঝাই পিকআপের চাকা পাংচার হয়ে গেলে সেটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের শুয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের বাম পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। পরে স্থানীয় লোকজন পিকআপটি সরিয়ে নিতে সহায়তা করার জন্য সেখানে জড়ো হন।সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা থেকে খুলনাগামী নড়াইল এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে পেছন থেকে বিকল পিকআপটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় পিকআপের পাশে থাকা লোকজন বাসের চাপায় গুরুতর আহত হন।স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজন মারা যান। এতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ জনে।দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। একপর্যায়ে মহাসড়কে চলাচলরত আরও ৩টি বাস ও একটি পিকআপেও আগুন দেওয়া হয়। ফলে মোট ৪টি বাস ও একটি পিকআপ আগুনে পুড়ে যায়।আগুন, ধোঁয়া ও জনতার বিক্ষোভে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে উভয়মুখী যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করে।খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ এবং হতাহতের প্রকৃত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।