লেখক শাহাদাত হোসেন তালুকদার >>> কোটি মানুষের ভীড়ে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাযায় অংশ নেয়ার লক্ষ্যে তেহরানে জড়ো হওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে রাশিয়া,চীন,পাকিস্তান,ভারত,তুরস্ক,সৌদি,কাতার,আফগানিস্তান,বাংলাদেশ সহ অনেক দেশের শোকাতুর বিশ্বনেতার তেহরানে আগমন।গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট:প্রতিটি প্রতিনিধি দলের জন্য আলাদা আলাদা কুরআনের আয়াত তেলাওয়াতে কোন দেশকে কী ইঙ্গিত?কূটনৈতিক ভাষা জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা দ্বারা কুরআনের আয়াত গুলো ইরানের প্রতি বিশ্বের দৃষ্টিভঙ্গি মোতাবেক প্রচার ও উপস্থাপন করতে পারাই ছিলো বীরের জাতি ইরানের জন্য বিশ্ব কূটনীতির উদ্দেশ্যে এক অভিনব কূটনীতিক সুযোগ।তাঁরা এসুযোগ কাজে লাগিয়ে দুনিয়াকে অবাক করে দিলেন।সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তেলাওয়াত করা হয় সূরা আল ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত। যেখানে দুই বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার কথা বলা হয়েছে একটি আল্লাহর পথে যুদ্ধরত আর অন্যটি অবিশ্বাসী বা কাফেরের দল।খুব সম্ভবত এখানে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে যেখানে ইরান যুদ্ধ করেছে বিধর্মীদের বিরুদ্ধে এবং সৌদি আরব বিধর্মীদের সঙ্গ দিয়েছে।কাতারের উদ্দেশ্যে-আল্লাহর অতীত ও ভবিষ্যতের ত্রুটির জন্য ক্ষমা বিষয়ক আয়াত,মানে কাতার মধ্যস্থতাকারী, ইরান বলছে তোমাদের ভূমিকা আমরা দেখেছি।পুরনো ভুল বোঝাবুঝি মাফ,এখন নতুন করে সম্পর্ক গড়ো নরম ভাষায় সমতার আহবান।রাশিয়া-চীন-পাকিস্তান মিত্ররা সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি পাঠিয়েছে এদের জন্য সম্ভবত প্রতিরোধ ও শাহাদাত বিষয়ক আয়াত।ইঙ্গিত: আমরা একসাথে ছিলাম, একসাথেই থাকবো, পশ্চিমা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অক্ষ অটুট।মোজতাবা খামেনির নেতৃত্বে আগের ধারাবাহিকতা বোঝানো।ভারত-তুরস্ক-আজারবাইজান এরা ভারসাম্য বজায় রাখা দেশ।ইঙ্গিত: সম্ভবত ন্যায়বিচার ও শান্তি বিষয়ক আয়াত।মানে: তোমরা সবার সাথে সম্পর্ক রাখো,কিন্তু জুলুমের বিরুদ্ধে এভাবে চুপ থেকো না।আফগানিস্তান,ইরাক,লেবানন,প্রতিরোধ অক্ষ।ইঙ্গিত: কারবালা ও শাহাদাত বিষয়ক আয়াত,জানাযা নাজাফ-কারবালা দিয়েও যাবে।মানে: শাহাদাতের পথেই আমাদের বিজয় তোমরা আমাদের মেরুদণ্ড।উম্মাহর ঐক্য এর বার্তা:বাংলাদেশ মুসলিম বিশ্বের বড় দেশ,ইরান সম্ভবত তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে শক্ত করে ধরো,বিচ্ছিন্ন হয়ো না,এই ধরনের আয়াত দিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে।মানে- ফিলিস্তিন,কাশ্মীর, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা এক, তোমরা মানবিক দিক থেকে যেভাবে পাশে আছো, সেটা চালিয়ে যাও।সামগ্রিক কৌশল কী?ধারাবাহিকতা দেখানো: নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতাবা খামেনির বেলায় রাষ্ট্রীয় নীতি একই থাকবে। জানাযা প্লাস কূটনীতি প্রদর্শনী একই ব্যানারে।বিভক্তি ভাঙা: যারা যুদ্ধে ইরানের বিপক্ষে ছিল সৌদি কাতার,তাদেরকেও দাওয়াত দিয়ে কুরআন দিয়ে কাছে টানা।পবিত্র কুরআনের আয়াত দ্বারা বুঝিয়ে দেয়া।শিয়া ন্যারেটিভ: মুহরম পরবর্তী ১০ দিনের সাথে মিলিয়ে জানাযা,লক্ষ্য হুসাইনের শাহাদাতের সাথে খামেনির মৃত্যু পাশাপাশি অবস্থান।এতে ভেতরের মানুষের আবেগ অনুকূলে পাওয়া।বহির্বিশ্বকে বার্তা: এটা দেখানো যে ইরান একা না, এমনকি আমেরিকা-ইসরায়েলের হুমকির মধ্যেও জানাযা হচ্ছে।ইরান কুরআনকে শুধু তেলাওয়াত করেনি,কূটনীতির হাতিয়ার বানিয়েছে,প্রতিটা আয়াত ছিল একেকটা কূটনৈতিক নোট।বন্ধুকে বলছেন আরও শক্ত হও।প্রতিপক্ষকে বলছেন হাত বাড়ালাম,ধরবে কিনা তোমার ব্যাপার।নিরপেক্ষকে বলছেন তোমরা ভুল পক্ষে যেও না।বলা চলে খামেনির এই জানাযার মধ্য দিয়ে ইরানের নতুন যুগের সূচনা।