আনোয়ারুল আজিম নোয়াখালী প্রতিনিধি >>> বড় স্বপ্ন নিয়ে মাত্র একদিন আগেই চাকরি ছেড়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল রাজধানী ঢাকায় গিয়ে আইফোনের কাজ শিখবেন, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন আরও বড় পরিসরে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ডানা মেলার আগেই এক নির্মম সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তরুণ টেকনিশিয়ান মো. নাজিম হোসাইনের প্রাণ।শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার দশঘরিয়া এলাকায় এক মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নাজিম নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় একই বাড়ির আবির নামের অপর এক তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত নাজিম হোসাইন চাটখিল উপজেলার পরকোট ইউনিয়নের পূর্ব শোশালিয়া (আটঘর) এলাকার মিঝি বাড়ির আমিন উল্যার বড় সন্তান। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড় ছিলেন।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাজিম ও একই বাড়ির আবির আটঘর এলাকা থেকে মোটরসাইকেল যোগে দিঘীরপাড় এলাকায় চা খেতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দশঘরিয়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহীই মারাত্মকভাবে আহত হন।দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিকে চিকিৎসা দিয়ে তাদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকা যাওয়ার পথে নাজিম হোসাইন মৃত্যবরণ করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত আবিরকে জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।নিহত নাজিম গত তিন বছর ধরে স্থানীয় চাটখিল পৌর মার্কেটের ‘সুজন টেলিকম’-এ মোবাইল টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করছিলেন। মাত্র একদিন আগেই তিনি সেখান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন। তার এমন অকাল মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত সুজন টেলিকমের স্বত্বাধিকারী সুজন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “নাজিম শুধু আমার দোকানের কর্মচারী ছিল না, সে আমার ভাইয়ের মতো ছিল। গত তিন বছর সে অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও সুনামের সাথে আমার এখানে টেকনিশিয়ানের কাজ করেছে। তার কাজের হাত ছিল চমৎকার, আর ব্যবহার ছিল ভীষণ ভদ্র। বড় স্বপ্ন নিয়ে মাত্র একদিন আগে সে আমার দোকান থেকে বিদায় নিয়েছিল। ঢাকায় গিয়ে আইফোনের কাজ শিখে সে আরও বড় কিছু করতে চেয়েছিল। সে যে এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, তা আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন।”পরিবারের সদস্যরা জানান, ঢাকায় গিয়ে আইফোন মেরামতের কাজ শেখার পাশাপাশি সেখানে টেকনিশিয়ান হিসেবে যোগ দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন নাজিম। ঢাকায় চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি সুজন টেলিকমের চাকরিটি ছেড়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে রাজধানী যাওয়ার আগেই এক সড়ক দুর্ঘটনা তার জীবন প্রদীপ চিরতরে নিভিয়ে দিল।নাজিমের এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।