মুহাম্মদ তৈয়্যবুল ইসলাম রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি >>> চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বৃহত্তর রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরীর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন, খতমে কোরআন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।২০২৩ সালের ২৬ জুন মৃত্যুবরণ করা এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের মৃত্যুবার্ষিকীতে রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং মরহুমের পরিবারের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে মরহুমের কবর জিয়ারত করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে খতমে কোরআন শেষে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন, কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরী ছিলেন রাঙ্গুনিয়ার রাজনীতি ও সমাজসেবার একজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। বৃহত্তর রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার কারণে তিনি সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন।রাজানগর ও ইসলামপুর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম সওদাগরের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউছুপ চৌধুরী।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মরহুমের বড় ছেলে কে.আর.এম পেয়ার উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহেদ কামাল তালুকদার, অর্থ সম্পাদক ইউছুপ কামাল তালুকদার, ইসলামপুর বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান রনি, সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, জেলা যুবদল নেতা কাজী রাকিবুল হাসান মাসুদ, উপজেলা যুবদল নেতা ইউছুপ সাগর, খোরশেদ আলম, সাবেক জেলা ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম, জিয়া মঞ্চ নেতা কাজী মহিউদ্দিন, রাজানগর যুবদলের আহবায়ক আবু মনছুর তালুকদার, সদস্য সচিব আব্দুল হালিম মাসুদ, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক বখতিয়ার উদ্দিন মাতব্বর, রাজানগর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জসিম উদ্দিন লিটন, ইসলামপুরের আহবায়ক কামরুল পারভেজ, রানীরহাট সিএনজি সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ হাসান এবং মরহুমের ছোট ছেলে ইমরান হাসান চৌধুরী ইমুসহ নেতৃবৃন্দ।অনুষ্ঠানে মরহুমের বড় ছেলে কে.আর.এম পেয়ার উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আমার পিতা কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সারাজীবন বিএনপির জন্য কাজ করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়, মৃত্যুর তিন বছর পার হলেও উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর স্মরণে কোনো স্মরণসভা আয়োজন করা হয়নি।”তিনি আরও বলেন, “যারা দলের জন্য দীর্ঘদিন ত্যাগ ও শ্রম দিয়েছেন, তাদের যথাযথভাবে স্মরণ করলে নতুন প্রজন্ম রাজনৈতিক ইতিহাস ও ত্যাগের বিষয়গুলো জানতে পারবে।”প্রধান অতিথি ইউছুপ চৌধুরী বলেন, “কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরী ছিলেন রাঙ্গুনিয়ার রাজনীতির একজন মাইলফলক। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছেন।”তিনি বলেন, “যারা সংগঠনের জন্য নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছেন, তাদের স্মরণ করা প্রয়োজন। কারণ তাদের অবদান থেকেই নতুন প্রজন্ম অনুপ্রেরণা পাবে।”ইউছুপ চৌধুরী আরও বলেন, “উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে.কে.এম রফিক বিন চৌধুরী, সহ-সভাপতি মুহাম্মদ বসির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম চেয়ারম্যান, হোসনাবাদের চেয়ারম্যান ইউনুস তালুকদারসহ অতীতে যারা দলকে সংগঠিত করেছেন, তাদের স্মরণ করা উচিত।”এসময় তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাকসুদুল হক মাসুদ চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার আহ্বান জানান।