আব্দুল্লাহ আল মারুফ, চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া এলাকার শাহ মজিদিয়া সড়কে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বেইলি ব্রিজটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া এই সেতুটি দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দশক আগে নির্মিত লোহার এই বেইলি ব্রিজটির আয়ুষ্কাল অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে সেতুর লোহার পাটাতন, মূল কাঠামো এবং জোড়াতালির অংশগুলো তীব্র ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। মরিচা ধরে অনেক জায়গার লোহা ক্ষয়ে যাওয়ায় এটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।শাহ মজিদিয়া সড়কটি এই এলাকার অন্যতম প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। বিশেষ করে সেতুটির আশপাশে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবস্থিত। এর মধ্যে রয়েছে:গারাংগিয়া ইসলামিয়া কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা,গারাংগিয়া ইসলামী রব্বানী মহিলা কামিল মাদ্রাসা,গারাংগিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন,প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবক এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করেই যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান, সেতুটি পার হওয়ার সময় বুক কেঁপে ওঠে। বিশেষ করে ছাত্রীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে এটি এখন একটি বড় আতঙ্কের নাম।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি যাতে সম্পূর্ণ ধসে না পড়ে, সেজন্য নিচের পিলারগুলোতে অতিরিক্ত লোহার পাইপ দিয়ে কোনো রকমে অস্থায়ীভাবে সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়েছে। তবে এই জোড়াতালির সংস্কার কোনো কাজেই আসছে না। মাঝারি বা ভারী কোনো যানবাহন সেতুতে উঠলেই পুরো কাঠামোটি তীব্রভাবে কেঁপে ওঠে। এতে পথচারী এবং যানবাহন চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।স্থানীয় ভ্যানচালক আবদুল মজিদ জানান, সেতুতে উঠলে মনে হয় এই বুঝি ভেঙে নিচে পড়ে গেলাম। কিন্তু বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই মরণফাঁদ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”সেতুটির বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা এবং এলাকাবাসীর দাবির বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে (এলজিইডি) জানান,গারাংগিয়া এলাকার শাহ মজিদিয়া সড়কের এই বেইলি ব্রিজটির জরাজীর্ণ অবস্থার কথা আমরা অবগত আছি। বেইলি ব্রিজের আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়ায় এটি এখন আর ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী নয়। আমরা ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেখানে একটি আধুনিক ও টেকসই আরসিসি (RCC) সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা (প্রজেক্ট প্রোফাইল) পাঠিয়েছি।যার প্রকল্প নাম উপজেলা ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়ক অনুধর্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্প, বরাদ্দ অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। তবে সাময়িকভাবে জনগণের যাতায়াত সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।দ্রুত আরসিসি সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসী, শিক্ষক ও সচেতন মহলের দাবি-কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন এই ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজটি দ্রুত অপসারণ করা হয়। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সেখানে অবিলম্বে একটি আধুনিক ও স্থায়ী আরসিসি সেতু নির্মাণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।