আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম সংবাদদাতা >>> সার কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ার কারণে বছরের একটি বড় সময় উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, দেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকটের কারণে সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় সার কারখানার অবস্থান তৃতীয়। প্রথম ও দ্বিতীয় অগ্রাধিকার যথাক্রমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সাধারণ শিল্প-কলকারখানা।গতকাল সোমবার (২২ জুন) চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।পরিদর্শনকালে প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় কারখানাটির উৎপাদনক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে এটি অধিক পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করলেও সেই অনুপাতে উৎপাদন মিলছে না।সিইউএফএল-এ সার্বক্ষণিক গ্যাস সরবরাহের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। একই সাথে কারখানাটিকে পুনরায় পূর্ণ উৎপাদনক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে কী কী যান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নির্ধারণে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, এই বিশেষজ্ঞ দলের প্রাথমিক পরিদর্শনের অংশ হিসেবেই তিনি আজ কারখানাটি ঘুরে দেখছেন।পরিদর্শনকালে মন্ত্রী সিইউএফএল চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি সার কারখানাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ও বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক ও স্বতন্ত্র মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।এ সময় মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন: চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম,কাফকোর চিফ করপোরেট অফিসার (সিসিও) খাজা সাইদুর রহমান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আব্দুল্লাহ ফারুক,সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. জসিম উদ্দিন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক কাজী আমিনুল হক,ডিএপি সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মঈনুল হক ও পরিচালন ব্যবস্থাপক আলমগীর জলিল এ ছাড়া বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) এবং সংশ্লিষ্ট সার কারখানাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।