আব্দুল্লাহ আল মারুফ >>> চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বদলির সাড়ে চার মাস পরও নতুন কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসি ও সিভিল সার্জনের আদেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে। পদ থেকে ‘মুভ আউট’ হওয়ার পরও কাগজে-কলমে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় হাসপাতালের প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ডে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।ফলে আগামী ২২ জুনের (সোমবার) মধ্যে চলতি অর্থবছরের বিভিন্ন বিল উত্তোলন করা সম্ভব না হলে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ কোষাগারে ফেরত যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে ব্যাহত হতে পারে হাসপাতালের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাতকানিয়া ইউএইচএফপিও পদে থাকাকালীন ডা. জসিম উদ্দিন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি) পদে পদোন্নতি পান। এরপর চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি তাকে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়ন করা হয় এবং ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেখানে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও পত্রে উল্লেখ ছিল।কিন্তু সেই আদেশ উপেক্ষা করে তিনি সাতকানিয়ায় স্বপদে বহাল থাকেন এবং পরবর্তীতে আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে (আরএমও) ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে হজ টিমের চিকিৎসক হিসেবে সৌদি আরব যান।এদিকে সাতকানিয়া উপজেলায় নতুন ইউএইচএফপিও হিসেবে ডা. অমিত দে-কে পদায়ন করা হয়। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ডা. অমিত নিয়মিত হাসপাতালে গিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও ডা. জসিম উদ্দিন তাকে কাগজে-কলমে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি।বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৬ জুন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম এক চিঠিতে ডা. জসিমকে অবিলম্বে দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই আদেশ পাওয়ার পরও ডা. জসিম বিভিন্ন ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে কালক্ষেপণ করছেন।নতুন কর্মকর্তা কাগজে-কলমে পূর্ণ দায়িত্ব না পাওয়ায় চলতি অর্থবছরের শেষ মুহূর্তের বিভিন্ন বিল আটকে আছে। আগামী সোমবার (২২ জুন) বিল উত্তোলনের শেষ সময়। এই সময়ের মধ্যে বিল পাস না হলে বরাদ্দকৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে, যার ফলে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।সাতকানিয়ার বাসিন্দা মো. সাইফুদ্দিন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে দীর্ঘ সাড়ে চার মাস ধরে এই ধরনের দীর্ঘসূত্রতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।এ বিষয়ে নতুন পদায়নকৃত কর্মকর্তা ডা. অমিত দে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে আমি নিয়মিত কর্মস্থলে এসে দায়িত্ব পালন করছি। তবে সদ্য বিদায়ী ইউএইচএফপিও এখনো আমাকে কাগজে-কলমে সম্পূর্ণ দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেননি।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদায়ী কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন দাবি করেন, আমি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছি। আর্থিক কিছু বিষয় বাকি আছে, সেগুলো রোববার (আগামীকাল) বুঝিয়ে দেওয়া হবে।চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,এ বিষয়ে উভয় কর্মকর্তার সাথে আমার কথা হয়েছে। আশা করছি আগামীকাল (রোববার) সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে ডা. জসিম উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে সমস্ত দায়িত্বভার হস্তান্তর করবেন।