আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক মুসলিম স্কুলছাত্রীকে (১৪) অপহরণ ও একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে টুটুল রায় (২১) নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল ১৯ জুন (শুক্রবার) মিরসরাই থানা এলাকা থেকে অপহৃতা ছাত্রীকে উদ্ধারসহ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।এ ঘটনায় আজ ২০ জুন (শনিবার) ভিকটিমের পিতা জয়নুল আবেদীন বাদী হয়ে সাতকানিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০২০) এর ৭/৯(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ০১নং চরতী ইউনিয়নের তালগাঁও গ্রামের জয়নুল আবেদীনের কন্যা স্থানীয় ইউনাইটেড আইডিয়াল ইনস্টিটিউট স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। সে স্কুলে যাতায়াতের পথে পুকুরিয়া চা বাগানের একটি মুদি দোকানের কর্মচারী টুটুল রায় তাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে টুটুলকে সতর্ক করা হলেও সে তা কর্ণপাত করেনি।গত ৯ জুন, ২০২৬ ইং সকাল অনুমান ৯:০০ ঘটিকার সময় ওই ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। সে চরতী ইউপির তালগাঁওস্থ আজিজিয়া আশ্রাফুল উলূম মাদ্রাসার সামনের পাকা রাস্তায় পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা টুটুল রায় তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাতনামা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।পুলিশ জানায় ঘটনার পর পরিবার সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে মেয়ের সন্ধান না পেয়ে ৯ জুনই সাতকানিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি নং-৪১২) করেন। এরপর পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা যৌথভাবে সন্ধান অব্যাহত রাখে। ঘটনার ১০ দিন পর, গত ১৯ জুন সাতকানিয়া থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের মিরসরাই থানা এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত টুটুল রায়কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।উদ্ধার হওয়া ভিকটিম জানায়, তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অপহরণের পর মিরসরাইয়ের একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে।তবে উদ্ধারের পর সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও বার্তায় কিশোরী ও যুবক বলতে দেখা যায়,স্বেচ্ছায় ওই যুবকের সাথে আসার দাবি করলেও, যুবকের দাবি-তাকে ব্ল্যাকমেইল করে সেখানে আনা হয়েছে। উভয়ের এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।এই বিষয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ভিকটিমের বাবার নিখোঁজ ডায়েরির সূত্র ধরে আমাদের টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অত্যন্ত তৎপরতার সাথে মিরসরাই এলাকা থেকে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মেয়েটিকে উদ্ধার এবং আসামিকে গ্রেফতার করেছে। আজ ভিকটিমের বাবার লিখিত এজাহারটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে তিনি আরও বলেন, অপরাধী যে ধর্মেরই হোক না কেন, আইনের চোখে সে একজন অপহরণকারী ও ধর্ষক। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) ও আদালতে জবানবন্দী রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলছে। আসামিকে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আমরা এই মামলায় দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিলের ব্যবস্থা নেব।এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।