রিপোর্ট: ইমদাদুল হক।। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে নানা গুঞ্জন ও সমীকরণ শুরু হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও সততা, যোগ্যতা ও দলের প্রতি আনুগত্যের দিক থেকে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে একটিই নাম- আমজাদ হোসেন রশিদ উল্লাহ। স্থানীয়দের মতে, মরজাল ইউনিয়নের আগামী দিনের নেতৃত্ব একজন যোগ্য মানুষের হাতে তুলে দিতে চান তারা।
সরেজমিনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, মরজাল ইউনিয়নে এবারের নির্বাচনে প্রার্থীর অভাব না থাকলেও সাধারণ মানুষের আস্থা ও অভিজ্ঞ মহলের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে আমজাদ হোসেন রশিদ উল্লাহর প্রতি। স্থানীয়রা মনে করেন, গত দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মাঝেও যিনি বটের মতো অটল থেকেছেন, তিনিই আগামী দিনে ইউনিয়নের উপযুক্ত অভিভাবক হতে পারেন।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত শাসন আমলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিরোধী মতাদর্শের যোগ্য প্রার্থীদের কোথাও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সেই চরম সংকটকালীন সময়েও আমজাদ হোসেন রশিদ উল্লাহ দলের স্বার্থে মাঠ ছাড়েননি। শত বাধা-বিপত্তি ও রাজনৈতিক হয়রানিমূলক একাধিক অজ্ঞাত মামলার শিকার হয়েও তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন সুদৃঢ় প্রাচীর হয়ে। দুঃসময়ে দলকে সুসংগঠিত রাখতে তার ত্যাগ ও অবদানের কথা দলটির নবীন-প্রবীণ সব স্তরের নেতাকর্মীই একবাক্যে স্বীকার করেন।
স্থানীয় প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আমজাদ হোসেন রশিদ উল্লাহ ইতিপূর্বে দুইবার মরজাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তৎকালীন সময়ে জনগণের মাঝে তার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জনগণের প্রকৃত রায়ের বিপরীতে গিয়ে তাকে জয়বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এবারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সেই হিসাব চুকিয়ে দিতে উন্মুখ হয়ে আছেন।
রাজনীতির বাইরেও আমজাদ হোসেন রশিদ উল্লাহ এলাকায় একজন সমাজসেবক ও দানবীর হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এলাকার তরুণ ও নতুন প্রজন্মের ভোটাররা মনে করছেন, মরজাল ইউনিয়নে এমন একজন উদীয়মান ও দূরদর্শী নেতৃত্ব আসা প্রয়োজন, যার হাতে এলাকার সমাজব্যবস্থা, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুসংহত থাকবে।
নির্বাচন ও জনআকাঙ্ক্ষা নিয়ে জানতে চাইলে আমজাদ হোসেন রশিদ উল্লাহ বলেন: বিগত দিনগুলোতে মরজাল ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সুখে-দুঃখে আমি পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। শত প্রতিকূলতার মাঝেও সাধারণ ভোটার ও দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমার সাথে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আসন্ন নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করবেন। বিজয়ী হয়ে আমি আমার বাকি জীবনটা এই অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত কৃষিজীবী, অসহায় এবং দরিদ্র মানুষের সেবায় উৎসর্গ করতে চাই।
মরজাল ইউনিয়নের সর্বস্তরের সুশীল সমাজ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের একটাই প্রত্যাশা, এবার যোগ্য ব্যক্তির হাতেই যোগ্য নেতৃত্ব আসুক। আর এর মাধ্যমে রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও সমৃদ্ধশালী ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।