আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার গরিবারঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অনুপস্থিতি, দায়িত্বে অবহেলা, ক্লাস ফাঁকি এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে বলে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে গত ১১ জুন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের কাছে একটি লিখিত আবেদন ও স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকবৃন্দ।অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক সরওয়ার কামাল দীর্ঘ ২০ বছর ধরে (২০০৬ সাল থেকে) একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। সরকারি নিয়ম বহির্ভূতভাবে টানা দুই দশক একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে তিনি একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। মাঝেমধ্যে আসলেও নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী শ্রেণি পাঠদান না করে অধিকাংশ সময় অফিস কক্ষে বসে কাটান। এমনকি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই বিদ্যালয় ত্যাগ করা এবং কোনো কোনো দিন অনুপস্থিত থেকে পরবর্তীতে এসে ব্যাকডেটে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তিনি অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত নৈমিত্তিক ছুটি (সিএল) ভোগ করেন এবং প্রধান শিক্ষকের কোনো প্রশাসনিক নির্দেশনা মানেন না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।একই বিদ্যালয়ের অপর সহকারী শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ আতাউল্লাহ নাজিবের বিরুদ্ধেও নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ না নিয়ে অফিস কক্ষে সময় কাটানো এবং পাঠদানে চরম উদাসীনতা প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে।এছাড়াও শিক্ষিকা জনাবা শাহিদা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ-তিনি প্রায়শই নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না এবং বিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন সময়ের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহারে ব্যয় করেন। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের পক্ষে মোহাম্মদ আব্বাছ উদ্দীন জানান, শিক্ষকদের এই ধরণের স্বেচ্ছাচারী আচরণ ও অবহেলার কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান দিন দিন তলানিতে ঠেকছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রতি অভিভাবকদের আস্থা হারিয়ে যাওয়ায় অনেকেই তাদের সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা এই অনিয়মের দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চাই।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। দ্রুতই বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।