আব্দুল্লাহ্ আল মারুফ >>> চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে গভীর রাতে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। গতকাল রোববার (১৩ জুন) রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট ও এর আশপাশের এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পক্ষের কর্মসূচির পরপরই অন্য পক্ষ পাল্টা স্লোগান নিয়ে মাঠে নামায় ক্যাম্পাস এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।রোববার রাত ১০টার দিকে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুম ও অপহরণের নাটক সাজানোর’ অভিযোগ তুলে ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শাখা ছাত্রদল। মিছিলটি জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে শাহ আমানত হল ও সোহরাওয়ার্দী মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।মিছিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রশিবিরকে ইঙ্গিত করে বিভিন্ন ঝাঁঝালো স্লোগান দেন। মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন: ১৯৭১ সালে এদের যে ভূমিকা ছিল, ২০২৬ সালেও তারা সেই একই ভূমিকা পালন করছে। আমরা ক্যাম্পাসে সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান চাই, কিন্তু কোনো অপশক্তি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে মেনে নেব না। দিন এখন বদলে গেছে, এটি জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ। যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব।ছাত্রদলের মিছিল শেষ হওয়ার পরপরই রাত ১০টা ১৫ মিনিটে একই স্থান (জিরো পয়েন্ট) থেকে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির। বিএনপির একজন সংসদ সদস্য কর্তৃক জাতীয় সংসদে হিজাব নিয়ে ‘কটাক্ষ’ করার প্রতিবাদে এই মিছিলের আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে। শিবির নেতাকর্মীদের মিছিলটিও শাহ আমানত হল ও সোহরাওয়ার্দী মোড় ঘুরে জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়।মিছিল চলাকালে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিএনপির ওই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এবং হিজাবের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন: জাতীয় সংসদের মতো একটি দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে একজন সংসদ সদস্য হিজাব নিয়ে যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বিএনপির পক্ষ থেকে যদি স্পষ্ট করা হতো যে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এমন বক্তব্য দিয়েছেন, তাহলে আমাদের রাজপথে নামতে হতো না। কারণ পাগলের কোনো বিচার নেই।আইনি কাঠামোর সমালোচনা করে শিবিরের এই নেতা আরও দাবি করেন, তারা এমন কিছু নীতি ও আইনের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে যা সামাজিক অবক্ষয় তৈরি করে। নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীদের আড়াল করতেই তারা এমন অবস্থান নিচ্ছে।গভীর রাতে ছাত্র রাজনীতির প্রধান দুটি পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি মিছিল ও উসকানিমূলক স্লোগানকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।