আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম >>> চট্টগ্রাম জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় দেড় কোটি বৃক্ষরোপণের এক বিশাল মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সরকারের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নেওয়া এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে কেবল গাছ লাগানোই নয়, সেগুলোকে পরিচর্যার মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।শনিবার (১৩ জুন) কর্ণফুলী উপজেলার চাদগাঁও বেড়িবাঁধ এলাকায় এক জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। কর্ণফুলী বেড়িবাঁধে ১ হাজার ২০০টি চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এই সবুজায়ন অভিযানের সূচনা হয়।২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন আজ থেকে শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সহ সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান একযোগে মাঠে নেমেছে।সাবেক কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ প্রজেক্টের মাধ্যমে মাত্র দুই মাসে এক লাখ গাছ লাগিয়ে প্রশংসিত হওয়া এই কর্মকর্তা বলেন: আমরা ইতিমধ্যে ৭০ হাজার গাছ লাগানোর কাজ শুরু করে দিয়েছি। আগামী পাঁচ বছরে শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ চারা রোপণ করা হবে। যার মধ্যে চলতি বছরেই ২৫ লাখ চারা লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।কর্ণফুলী বেড়িবাঁধে ১৯ প্রজাতির চারা উদ্বোধনী দিনে জেলা প্রশাসক নিজে একটি ‘সোনালু’ গাছের চারা রোপণ করে অভিযানের সূচনা করেন। কর্ণফুলী বেড়িবাঁধের চাদগাঁও এলাকার প্রায় ১.৫০ একর জায়গাজুড়ে ১৯টি বৈচিত্র্যময় প্রজাতির মোট ১ হাজার ২০০টি চারা রোপণ করা হয়।এই তালিকায় রয়েছে: ফুলের গাছ: সোনালু, জারুল, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, পলাশ, কাঞ্চন।ফলজ ও ঔষধি গাছ: চালতা, বকুল, মহুয়া, আমলকি, অর্জুন, জলপাই, কাঠবাদাম, হিজল, বহেরা।বনজ ও অন্যান্য: ঝাউ, চিকরাশি ও মেহগনি।এ বছরের চারা রোপণের পরিসংখ্যান চলতি বছর চট্টগ্রামের বিভিন্ন জোনে ২৫ লাখ চারা রোপণের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার একটি বড় অংশ বাস্তবায়ন করবে বন বিভাগ। বণ্টনটি নিচে দেওয়া হলো: চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ ৮,৩৪,৫০০ টি চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ ৭,৫০,০০০ টি,উপকূলীয় বন বিভাগ ২,৩২,৫০০ টি,চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেন ১৫,২৮৯ টি,সিডিএ ও বন বিভাগ (যৌথ উদ্যোগ) ১৬ হাজার টি (কর্ণফুলী বেড়িবাঁধের দুই পাশে)গাছ লাগানোর পর তা যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনার কথা জানান ডিসি। তিনি উল্লেখ করেন, রোপণকৃত প্রতিটি চারার উচ্চতা ন্যূনতম ৫ ফুট নিশ্চিত করা হয়েছে যেন তা সহজে টিকে থাকতে পারে। পাশাপাশি গবাদিপশুর হাত থেকে বাঁচাতে খাঁচাসহ প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।করোনাকালের অক্সিজেনের সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জেলা প্রশাসক নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পৃথিবী আমাদের একমাত্র বাসস্থান। মানুষের কারণেই পরিবেশ আজ সংকটে। এই গাছগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাবে। তাই প্রতিটি নাগরিকের উচিত এগুলোকে নিজের সম্পদ মনে করে পরিচর্যা করা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোছাইন, দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা, উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম এ হাসান এবং সিডিএ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।সংশ্লিষ্ট পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই বৃহৎ সবুজায়ন উদ্যোগ চট্টগ্রামের পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় অত্যন্ত যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।