আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। চট্টগ্রাম চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় টেকসই কৃষি, পরিবেশ রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈব-বালাইনাশক বা বায়োপেস্টিসাইড ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে একটি ব্যতিক্রমী ও দিনব্যাপী কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের দুলহান ক্লাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বায়োপেস্টিসাইড বা জৈব-বালাইনাশক একটি কার্যকর, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প। মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা, বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা টেকসই রাখতে জৈব-বালাইনাশকের কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে মোঃসৈয়দ নুরুল আবছার’র সভাপতিত্বে,প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রিজিওনের রিজিওনাল সেলস্ ম্যানেজার মোঃসোহেল সিকদার।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃসোহেল রানা,টেরিটোরি সেলস্ অফিসার,চন্দনাইশ চট্টগ্রাম।
কর্মশালায় আধুনিক ও নিরাপদ চাষাবাদের পাশাপাশি ব্র্যাক উদ্ভাবিত বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের বীজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাকের উন্নত জাতের হাইব্রিড ধান ‘রাজা’, করলা বীজ ‘মনি’, হাইব্রিড ভুট্টা ‘১৬৪’ এবং মানসম্মত আলু বীজসহ ব্র্যাক সিডের বিভিন্ন ফসলের বীজ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান মুঠোফোনে এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন,রাসায়নিক কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে বায়োপেস্টিসাইডের ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। টেকসই কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে জৈব-বালাইনাশকের সম্প্রসারণ বাড়াতে হবে। সারা বাংলাদেশে কৃষির টেকসই উন্নয়নে ব্র্যাক সিডের এমন দূরদর্শী পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়।
ব্যতিক্রমী এই কর্মশালায় সাতকানিয়া উপজেলার ৫৫-৬০ জন ‘মডেল কৃষক অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে কৃষকদের জৈব-বালাইনাশকের পরিচিতি, সঠিক প্রয়োগ পদ্ধতি, এর কার্যকারিতা এবং ফসলের ক্ষতিকর রোগ ও পোকা দমনে এর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত বাস্তব ধারণা দেওয়া হয়। এছাড়া তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি কৃষকরা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জৈব-বালাইনাশকের মাঠ পর্যায়ের কার্যকারিতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করেন।
আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের মাঝে এই ধরণের সচেতনতামূলক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ আগামীদিনে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ কৃষি চর্চা ছড়িয়ে দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।