আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম >>> বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস ব্যবসায়ী আজিজ খলিফা (৫৩) অপহরণ ও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী এবং প্রধান আসামি উদয়ন ধর (৪০)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গত সোমবার (০৮ জুন) রাত সোয়া ১০টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের দুর্গম ও গহীন জঙ্গল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। র্যাব-১৫ (কক্সবাজার) ও র্যাব-৭ (চট্টগ্রাম)-এর একটি চৌকস দল যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনে।গ্রেফতারকৃত উদয়ন ধর বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার উত্তর বাইশারী এলাকার মৃত বজেন্দ্র ধরের ছেলে।র্যাব জানায়, গত ২০ মে দুপুরে ভিকটিম আজিজ খলিফা পাওনা ৬ লাখ টাকা আদায়ের লক্ষ্যে স্থানীয় উত্তর বাইশারী বাজারে উদয়ন ধরের কাপড়ের দোকানে যান। টাকা পরিশোধ না করে উল্টো কৌশলে আজিজ খলিফাকে ১ হাজার টাকা পথখরচ দিয়ে কক্সবাজারের সিআইসি (CIC) হাসপাতালে একজন পরিচিত চিকিৎসকের কাছে পাঠায় উদয়ন।পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, আজিজ খলিফা হাসপাতালে পৌঁছানো মাত্র ওৎ পেতে থাকা অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন দুর্বৃত্ত তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে জোর করে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ওপর চালানো হয় পাশবিক ও অমানুষিক নির্যাতন।চরম নির্যাতনের শিকার হয়েও আজিজ খলিফা কৌশলে নিজের ‘ইমু’ (Imo) অ্যাকাউন্ট থেকে ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এক স্বজনের মোবাইলে ভয়েস মেসেজ পাঠান। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজারের ঈদগাহ থানার কালিরছড়া রেললাইনের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে অবস্থার অবনতি ঘটে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।২১ মে চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বেড খালি না থাকায় তাকে বেসরকারি ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল’-এর আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ হয়ে ২২ মে পরিবার তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। ২৩ মে সকালে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আজিজ খলিফা।ব্যবসায়ীর মৃত্যুর পর অপরাধ ধামাচাপা দিতে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি সামাজিক আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করে আসামিপক্ষ। একই সাথে আইনি পদক্ষেপ না নিতে নিহতের পরিবারকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আন্দোলনের সৃষ্টি হলে বিষয়টি গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে উঠে আসে।পরবর্তীতে গত ২৫ মে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী সেলিনা আকতার বেবী বাদী হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় উদয়ন ধরসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় মূল পরিকল্পনাকারী উদয়ন।হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই র্যাব-১৫ ছায়া তদন্ত ও দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, আসামি সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের গভীর অরণ্যে আত্মগোপন করে আছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে র্যাব-১৫ ও র্যাব-৭-এর যৌথ আভিযানিক দল পাহাড়ের গহীন জঙ্গলে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে উদয়নকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।র্যাবের সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।