মোঃ আরাফাত তালুকদার জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী >>> পটুয়াখালী সদর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক শিশু ও এক গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের কালিচান্না এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন বেলা ১১টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মামলার বাদী মতিউর রহমানের বাড়ির সামনে চড়াও হয়। হামলাকারীরা প্রথমে তার শিশু সন্তান আবু সাঈদকে মারধর করতে করতে টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি সড়কে নিয়ে যায়। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য মোয়াজ্জেম হাওলাদার এগিয়ে আসেন। তবে হামলাকারীরা তাকেও রেহাই দেয়নি। তারা মোয়াজ্জেমের ওপর চড়াও হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। হামলায় তার হাতের কবজি ও তালু মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। তবে দুজনেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাদী মতিউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “পূর্ব বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিত ভাবে আমার শিশু সন্তান এবং তাকে বাঁচাতে আসা গ্রাম পুলিশের ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় আমাদের প্রাণনাশের হুমকিও দিয়ে গেছে। আমরা এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।