oplus_142606336
আব্দুল্লাহ্ আল মারুফ।। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা গ্রামে রাতের আঁধারে ও দিনদুপুরে অবাধে চলছে পাহাড় এবং ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কাটার মহোৎসব। স্থানীয় পাহাড়খেকো হিসেবে পরিচিত শাহ আলম কোম্পানিসহ বেশ কয়েকজন অবৈধ ইটভাটার মালিকের এই ধ্বংসযজ্ঞে বিপন্ন হয়ে পড়েছে স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষিব্যবস্থা। অথচ এই ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখেও উপজেলা প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এই অবস্থায় পরিবেশ রক্ষা, ফসলি জমি বাঁচানো এবং অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে ছনখোলা এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ।আজ শুক্রবার (৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পশ্চিম ছনখোলা এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত ভুক্তভোগী ও স্থানীয় জনতা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।মানববন্ধনে অংশ নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষি জমি হারানো ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন,আমাদের চোখের সামনে পাহাড় ও ফসলি জমির মাটি কেটে সাবাড় করে দেওয়া হচ্ছে। মাটি কাটার কারণে আমাদের ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজ আজ বিলীন হওয়ার পথে। ক্ষেত-খামারে কোনো ফসল হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে এই অঞ্চলে মানুষ না খেয়ে মরবে, পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন-দয়া করে আমাদের কৃষি জমি বাঁচান, আমাদের পাহাড় বাঁচান।মানববন্ধনে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সমাজসেবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুস্তফিজ, অ্যাডভোকেট নজরুল, মুক্তার আহমেদ, আক্কাস উদ্দীন এবং খালেদ হোসাইন কোখনসহ আরও অনেকেই।বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করে বলেন,মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে অভিযান চালানো হয়, তা মূলত একটি ‘নাটকীয়’ লোকদেখানো অভিযান। অভিযানের পরপরই ইটভাটার মালিকেরা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। মাটি কাটার এই ভয়াবহ চিত্র এবং শাহ আলম কোম্পানির তাণ্ডবের কথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়কে বারবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু অজানা কারণে তিনি কোনো দৃশ্যমান বা স্থায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। সরকারি পাহাড় এবং কৃষি জমি রক্ষা করার মূল দায়িত্ব প্রশাসনের। কিন্তু সেখানে প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা ও পরোক্ষ সহযোগিতাতেই অপরাধীরা এতো বড় অপরাধ করার সাহস পাচ্ছে।মানববন্ধনে উপস্থিত সর্বস্তরের এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রশাসন যদি অনতিবিলম্বে এসব অবৈধ ব্রিক ফিল্ড (ইটভাটা) বন্ধ না করে এবং পাহাড়-মাটি কাটা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নেয়, তবে সাধারণ মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব ও শেষ সম্বল কৃষি জমি রক্ষায় আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে। উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার উপজেলা প্রশাসনকে নিতে হবে।পরিবেশ ও জীবিকা রক্ষার এই আন্দোলনে ছনখোলা গ্রামের সাধারণ মানুষ এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।