আনোয়ারুল আজিমঃ নোয়াখালী প্রতিনিধি >>> মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, “বিগত ১৭ বছর একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষিগত করে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছিল। তারা দেশে লুটপাট করেছে, গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে এবং ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে। এখন আরেকটি দল ২০২৪ সালের জনগণের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের পকেটস্থ করে সেখান থেকে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ বোকা নয়।”বুধবার (৩ জুন) দুপুরে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা হলরুমে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, গুলির মুখে দাঁড়িয়েছি। তিনি স্বাধীনতার ঘোষকের সন্তান—এটি আমাদের গর্ব।”গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা সব সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে ছেড়ে দিতে চাই। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে, তারাই রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।”মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করি। কেউ যদি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে বা মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করার চেষ্টা করে, প্রয়োজনে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান ঘটবে। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে অসম্মান করতে দেওয়া হবে না।”তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। এই স্বাধীনতা, মানচিত্র ও পতাকার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, পাকহানাদার বাহিনীর সঙ্গে মিলিত হয়ে গণহত্যা ও নির্যাতন চালিয়েছে—তাদের আস্ফালন মেনে নেওয়া হবে না।”সাম্প্রতিক একটি টকশোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। এটিই আমাদের অস্তিত্ব ও পরিচয়—এখানে কোনো আপসের সুযোগ নেই।”গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো আন্দোলন চালিয়েছে। এই সময়ে বহু গুম, খুন ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, যা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। আন্দোলনে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিশুরাও রেহাই পায়নি, তবুও জনগণ দমে যায়নি।”তিনি আরও বলেন, “গত ১৭ বছরে বাংলাদেশকে একটি পার্শ্ববর্তী দেশের দাস রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। সেখান থেকে মুক্তির লক্ষ্যেই ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ছাত্রদলের ১৪৮ জন নেতা এ আন্দোলনে প্রাণ দিয়েছেন।”চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ.এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, সহকারী পুলিশ সুপার (চাটখিল সার্কেল) মনীষ দাশ, চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মোন্নাফ।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চাটখিল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, সাবেক আহ্বায়ক দেওয়ান সামছুল আরেফিন শামিম, সদস্য সচিব আহসানুল হক মাসুদসহ স্থানীয়।