আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে বর্তমানের নির্ধারিত সময় পরিবর্তন করে শপিং মল ও মার্কেটসমূহ সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার পরিবর্তে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন মার্কেট ও ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেছেন, সাধারণত সন্ধ্যার পরই মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের সমাগম বৃদ্ধি পায় এবং কেনাবেচা জমজমাট হয়। বর্তমান নিয়মে সন্ধ্যা ৭টায় মার্কেট বন্ধ করে দেওয়ার কারণে বেচাকেনা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন-বোনাস ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন।বুধবার (৩ জুন) বিকেলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ কনফারেন্স হলে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নব-নির্বাচিত বোর্ড অব ডাইরেক্টর্সের সাথে চট্টগ্রামের বিভিন্ন মার্কেট ও ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দের এক সৌজন্য সাক্ষাত ও মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়।চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আমজাদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন চেম্বার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চেম্বার পরিচালক আসাদ ইফতেখার।মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রদান সংক্রান্ত বিভিন্ন হয়রানির কথা তুলে ধরেন এবং বর্তমান ভ্যাট প্রদান পদ্ধতি রহিত করে পূর্বের ন্যায় ‘প্যাকেজ পদ্ধতিতে’ ভ্যাট প্রথা চালুর বিষয়ে চেম্বার নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন।ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আমজাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ব্যবসায়ী তথা চেম্বার সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত এই পরিচালনা পর্ষদ ব্যবসায়ীদের কল্যাণে সরকারের সাথে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে যাবে। ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।” জ্বালানি সাশ্রয়ে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার যৌক্তিক দাবিটি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান।চেম্বার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপন বলেন, “ব্যবসায়ীদের দেওয়া ট্যাক্স ও ভ্যাটের মাধ্যমেই জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং সেই রাজস্ব দিয়ে সরকার দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছে। তাই দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারকে আরও সচেষ্ট হতে হবে।সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চেম্বার পরিচালক আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), মোঃ জাহিদুল হাসান, এ. এস. এম. ইসমাইল খান ও মোঃ সেলিম নুর।মার্কেট নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব সালামত আলী, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল আলম চৌধুরী মিলটন, সদস্য নজরুল ইসলাম মামুন, তামাকুমুন্ডি লেইন বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, বিপনী বিতান বণিক সমিতির সহ-সভাপতি ইলিয়াছ চৌধুরী, ফিনলে সাউথ সিটি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো: জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো: আইয়ুব খান, সানমার ওশান সিটি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মো: সফি, সাধারণ সম্পাদক মো: আহসান উল্লাহ, মিমি সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: জয়নাল আবেদীন, চট্টগ্রাম বেকারী মালিক সমিতির সভাপতি কে.এম. মামুন রাজা, ফিনলে স্কয়ার শপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো: খালেদ (জুয়েল), কামাল বাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: নুরুল আবছার, গোলাম রসুল মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: আকবর, আক্তারুজ্জামান সেন্টার দোকান মালিক সমিতির সহ-সভাপতি সরওয়ার কামাল, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব কামাল এবং সেন্ট্রাল প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল গফুর পাটওয়ারী প্রমুখ।