মোঃ আল আমিন বিশেষ প্রতিনিধি দেবিদ্বার (কুমিল্লা) >>> কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুনরায় চালু করা দুটি অবৈধ ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ভাটা দুটির চুল্লি ও নতুন তৈরি করা ইট বিনষ্ট করা হয়েছে।বুধবার দুপুরে উপজেলার চরবাকর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘রাসেল ব্রিকস’কে ২ লাখ টাকা এবং ‘সুনিয়া ব্রিকস’কে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সাল উদ্দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চিমনি ছাড়া ইট পোড়ানো এবং পরিবেশ দূষণের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে ভাটা দুটির বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল। এর আগে গত ৫ মে অভিযান চালিয়ে দুটি ভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত-২০১৯) এর ধারা ৮(৩) লঙ্ঘনের দায়ে সুনিয়া ব্রিকসকে ৭৫ হাজার এবং রাসেল ব্রিকসকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।তবে ওই অভিযানের পরও মালিকপক্ষ গোপনে চুল্লি সংস্কার করে চিমনি ছাড়াই পুনরায় ইট পোড়ানো শুরু করে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। এ সময় আইনটির ১৮(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে নতুন করে জরিমানা করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জ্বলন্ত চুল্লিতে পানি দিয়ে আগুন নেভান এবং কাঁচা-পাকা ইটসহ চুল্লির ভেতরের অংশ ধ্বংস করে দেন।অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লার পরিদর্শক বিপ্লব কুমার সূত্রধর এবং দেবিদ্বার থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সাল উদ্দিন বলেন, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। আগে জরিমানা ও চিমনি ভেঙে দেওয়ার পরও তারা পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছিল। পরিবেশ ধ্বংসকারী এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বিপ্লব কুমার সূত্রধর বলেন, আদালতের নির্দেশনা ও পরিবেশ আইন অমান্য করে ভাটাগুলো পরিচালিত হচ্ছিল। আগের অভিযানের এক মাসের মধ্যেই তারা আবারও কার্যক্রম শুরু করে। তাই পুনরায় জরিমানার পাশাপাশি চুল্লি ও ইট সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করা হয়েছে। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি অব্যাহত থাকবে।