আব্দুল্লাহ আল মারুফ, চট্টগ্রাম সংবাদদাতা >>> আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বন্দরনগরী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের পশুর হাটগুলো জমতে শুরু করেছে। তবে এবার প্রথাগত বড় পশুর হাটের ভিড়, কাদা আর টানাহেঁচড়ার ভোগান্তি এড়াতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ব্যস্ত ও সচেতন ক্রেতাদের একটি বড় অংশ এখন সরাসরি গ্রামাঞ্চলের ছোট-বড় খামারগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। খামার থেকেই দেখেশুনে, শান্ত পরিবেশে পছন্দের কোরবানি পশু কিনছেন তারা।ইতোমধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পটিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হয়েছে।পেশায় সরকারি কর্মকর্তা নুরুল আলম জানান,হাটে গিয়ে দরদাম করা, কাদা-পানি মাড়ানো এবং পশুর নিরাপত্তার বিষয়টি বেশ ঝামেলার। তাই এবার ঝামেলা এড়াতে সরাসরি গ্রাম অঞ্চলের একটি পারিবারিক খামার থেকে গরু কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে অন্তত নিজের পছন্দমতো ও সুস্থ পশু নিশ্চিত করা যায়।শুধু নুরুল আলমই নন, তার মতো অনেক চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী এখন খামারিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন। ফলে খামারগুলোতেই এখন এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।বাঁশখালীর অভিজ্ঞ পশুর বেপারী আব্দুর রহমান জানান, এবার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে বা চোরাই পথে গরু আসা অনেকটাই কমে গেছে। ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি গরুর ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন খামারিরা। তবে আন্তর্জাতিক কিছু পরিস্থিতির কারণে যদি শেষ মুহূর্তে চোরাই পথে গরু প্রবেশ করে, তবে দেশি গরুর বাজারে দামের কিছুটা ওঠানামা হতে পারে।এদিকে লোহাগাড়ার খামারি আবু ছিদ্দিক সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন,গো-খাদ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। ভুসি, খৈল ও খড়ের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে গরু লালন-পালন এখন আর আগের মতো লাভজনক নেই। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার পশুর দাম কিছুটা বাড়তি মনে হতে পারে।তবে পটিয়ার মহিষের খামারি মোঃ ইউসুফ জানান ভিন্ন কথা। তার খামারে থাকা ৫০টিরও বেশি মহিষের মধ্যে ইতোমধ্যে ১৫টি বেশ ভালো দামে বিক্রি হয়ে গেছে। বাকিগুলো নিয়েও ক্রেতাদের সাথে আলোচনা চলছে। একই চিত্র আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর এলাকার ক্ষুদ্র খামারি হাবিবের। তার ১৫টি ষাঁড়ের মধ্যে একটি ভালো দামে বিক্রি হয়েছে, বাকি ১৪টি বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছে।খামারের পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটগুলোও প্রস্তুত হচ্ছে। সাতকানিয়া উপজেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট মির্জাখীল বাজার হাট, একদন্ত পশুর হাট এবং চন্দনাইশ পৌরসভার খানহাট পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে।হাটের ইজারাদাররা ক্রেতা ও বেপারীদের আকৃষ্ট করতে মাইকিং করে নানা সুযোগ-সুবিধার ঘোষণা দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে:বেপারীদের বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা।কঠোর নিরাপত্তা ও জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ।হাসিল বা খাজনার বিশেষ ছাড়।বর্তমান বাজার দর,বাজারে বর্তমানে বড় গরুর চেয়ে মাঝারি ও ছোট সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি।গরুর মাংস (লাইভ ওয়েট/মণ হিসেবে): প্রতি মণ ২৬,০০০ থেকে ২৮,০০০ টাকা।খাসির মাংস (লাইভ ওয়েট) প্রতি কেজি ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা।তবে ব্যবসায়ীদের ধারণা, ঈদের একেবারে আগ মুহূর্তে চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই দাম কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।সার্বিক প্রস্তুতি ও পশুর জোগান নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আলমগীর বলেন,এবার চট্টগ্রামে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমাণ কোরবানির পশু স্থানীয় খামারিদের কাছে মজুত রয়েছে। ফলে বাইরে থেকে পশু না এলেও কোনো সংকট হবে না। আমরা খামারিদের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছি। একই সাথে হাটের ভোগান্তি কমাতে এবং ক্রেতা-বিক্রেতার সুবিধার্থে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সরাসরি খামার থেকে পশু কেনাকে আমরা উৎসাহিত করছি। প্রতিটি অনুমোদিত পশুর হাটে আমাদের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম থাকবে, যাতে কোনো অসুস্থ বা স্টেরয়েডযুক্ত পশু বাজারে বিক্রি না হতে পারে।