আব্দুল্লাহ আল মারুফ, চট্টগ্রাম সংবাদদাতা >>> চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর কন্যা শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোঃ ফয়সালকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টানা ৭২ ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ফয়সাল বিজ্ঞ আদালতে নিজের নৃশংস অপরাধের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে (২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টায় হাটহাজারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রূপন নাথের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নরসিংদীর রায়পুরা থানাধীন নিলক্ষী ইউনিয়নের টংকপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় মামলার প্রধান আসামি ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তাকে ধরতে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় অভিযান চালায় পুলিশ।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ফয়সাল জানায়, গত ২৬ মার্চ হাটহাজারীর আমান বাজার এলাকার একটি তুলার গুদামে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। পাশবিকতার একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে ফয়সাল ও তার সহযোগী মিলে তাকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে শিশুটির মরদেহ ওই গুদামেরই তুলার বস্তার নিচে লুকিয়ে রেখে তারা পালিয়ে যায়।চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার ডিসি মাসুদ আলম বলেন,নারী ও শিশুর প্রতি যেকোনো ধরণের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।আদালতে দেওয়া মূল আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সহায়তাকারী অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ দ্রুততম সময়ে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।