আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে এখন শুধু ঢেউয়ের গর্জনই নয়, পর্যটকদের হৃদয় দোলাচ্ছে এক তরুণীর কণ্ঠের গানের মোহনীয় সুর। তিনি কক্সবাজারের স্থানীয় উদীয়মান সংগীতশিল্পী আকলিমা ইসলাম ইফতি। সৈকতের নীল জলরাশির পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর পরিবেশন করা গান এবং সুরের মূর্ছনায় মুগ্ধ হচ্ছেন দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজারো পর্যটক।সম্প্রতি সমুদ্রসৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মঞ্চে ইফতির গান সুর বাজানোর পারফরম্যান্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সাড়া ফেলেছে। পর্যটন নগরীর বিনোদনে তাঁর এই শৈল্পিক পরিবেশনা এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।ঢাকা থেকে পরিবারসহ বেড়াতে আসা পর্যটক তানভীর আহমেদ বলেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি সন্ধ্যায় আমাদের কোম্পানির ইভেন্টে ইফতির এমন চমৎকার লাইভ গান ও নিত্য উপভোগ করব, তা ভাবিনি। আকলিমা ইসলাম ইফতির পারফরম্যান্স আমাদের ভ্রমণ আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সমুদ্রের বাতাসের সাথে বাঁশির সুর মিলে এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়।সিলেট থেকে আসা আরেক পর্যটক মরিয়ম আক্তার বলেন, সাধারণত সৈকতে আমরা ঘুরে বেড়াই, কিন্তু এই শিল্পীর গানের সুরের দক্ষতা আমাদের এক জায়গায় থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে। তরুণ প্রজন্মের একজন নারী হয়ে এভাবে লোকসংগীতকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরাটা সত্যিই প্রশংসনীয়।শিল্পীর এই উদ্যোগ ও প্রতিভা সম্পর্কে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু বলেন,আকলিমা ইসলাম ইফতি আমাদের স্থানীয় একজন অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও প্রতিভাবান শিল্পী। লোকসংগীত বিভিন্ন গানের প্রতি তাঁর যে একাগ্রতা, তা সত্যিই গর্বের। কক্সবাজারের পর্যটনকে কেবল প্রকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইফতির মতো তরুণ শিল্পীরা দারুণ ভূমিকা রাখছেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমি সব সময়ই এমন প্রতিভাদের বিকাশ ও পৃষ্ঠপোষকতায় কাজ করে যাচ্ছে। পর্যটকদের সুস্থ বিনোদন দিতে আমরা ভবিষ্যতে সরকারিভাবেও তাকে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছি।নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে আকলিমা ইসলাম ইফতি বলেন, সংগীত এবং বাঁশি আমার প্রাণ। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ কক্সবাজারে আসেন ক্লান্তি দূর করতে। আমার গান আর সুর যদি তাদের মনে কিছুটা হলেও প্রশান্তি দিতে পারে, সেখানেই আমার সার্থকতা। আমি আমাদের দেশীয় লোকসংস্কৃতি ও সুরকে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে চাই।স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা মনে করছেন, পর্যটন জোনে আকলিমা ইসলাম ইফতির মতো তরুণ শিল্পীদের সরকারি ও বেসরকারিভাবে আরও বেশি সুযোগ ও বড় মঞ্চ করে দিলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প সংস্কৃতি অঙ্গনে আরও সমৃদ্ধ হবে।