আব্দুল্লাহ আল মারুফ,চট্টগ্রাম সংবাদদাতা >>> চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় পৃথক দুটি স্থানে দুই ব্যাটারিচালিত রিকশাচালককে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। এতে কাইয়ুম শরিফ (১৯) ও মোহাম্মদ আকিব (২০) নামে দুই তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের কুমিরাঘোনা ও ঘোনার মোড় এলাকায় পৃথক এ হামলার ঘটনা ঘটে।আহতদের লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।আহত মোহাম্মদ আকিব লোহাগাড়ার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের কুমিরাঘোনা এলাকার বাসিন্দা। আকিবের পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় একটি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রুপ তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় ও খাদ্যসামগ্রী পরিবহনের জন্য আকিবকে বাধ্য করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু আকিব তাদের মালামাল বহনে অস্বীকৃতি জানান। এরই জেরে সোমবার সন্ধ্যায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে তার হাত ও পেটে গুলি লাগে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।অন্যদিকে, একই সন্ধ্যায় চুনতি ইউনিয়নের বড়ঘোনা এলাকার বাসিন্দা কাইয়ুম শরিফ গুলিবিদ্ধ হন। আহত কাইয়ুম জানান, চুনতি বাজার থেকে যাত্রী নিয়ে তিনি বড়হাতিয়ার ঘোনার মোড় এলাকায় যান। যাত্রী নামিয়ে রিকশা নিয়ে ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে আকস্মিক গুলি ছোড়ে। এতে তার পিঠের বিভিন্ন অংশে গুলি লাগে।লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল ফাহিম জানান,গুলিবিদ্ধ দুই তরুণকে সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। দুজনের শরীরেই গুলির আঘাত রয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেছি।সন্ধ্যায় উপজেলার দুটি ভিন্ন স্থানে দুই রিকশাচালককে গুলি করার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর পরই এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।এ প্রসঙ্গে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান,উপজেলায় দুই রিকশাচালকের ওপর হামলার ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। হামলার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এই ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত শেষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল।