আব্দুল্লাহ আল মারুফ >>> চট্টগ্রাম নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থক। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দিন, মো. সুমন, মো. ইমন, মুর্তুজা মেহেদী ওরফে মেহেদী হাসান।মো. বশর ওরফে হাসান, মো. সজিব, মো. মুসা, মো. সোহেল, মো. মনির, রায়হান।ইলিয়াছ ওরফে মিলন, জাহিদুল হক ওরফে সোহাগ, মো. শাহিন, মো. শরীফ।মো. ছোটন ওরফে রাকিব মিয়া, আলামিন, সাদ্দাম হোসেন, মো. রাসেল ও মো. জয়নাল।কোতোয়ালী থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষ হওয়ার পরপরই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হঠাৎ জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান ও মিছিল শুরু করে। এ সময় তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেয়।পুলিশের অভিযোগ, মিছিলকারীরা লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের বিভিন্ন গলি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল তল্লাশি করে ১৫টি ভাঙা ইটের টুকরা এবং ৮টি কাঠের লাঠি আলামত হিসেবে জব্দ করে।ঘটনার পর নগরের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে এই ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, নাশকতার পরিকল্পনা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন ও সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনার পেছনে আর কারা জড়িত বা কারা অর্থায়ন করেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।