ক্রীড়া প্রতিবেদক >>> প্রথম দিনের আধিপত্য দ্বিতীয় দিনে ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে স্বাগতিকরা। বিশেষ করে বোলিংয়ে ছিল ছন্নছাড়া ভাব। পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২২ ওভার। দিনের একমাত্র সাফল্যও সেটিই। ফলে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করেও দ্বিতীয় দিন শেষে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৭৯ রান। এখনও তারা ২৩৪ রানে পিছিয়ে থাকলেও হাতে রয়েছে ৯ উইকেট। এর আগে ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের চতুর্থ ওভারে শাহিন আফ্রিদির বলে সিঙ্গেল নিয়ে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুশফিকুর রহিম। অন্যদিকে লিটন দাসও ভালো শুরু পান। শাহিনের এক ওভারে টানা তিনটি চার হাঁকান তিনি। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন। স্লিপে একবার জীবন পাওয়ার পর মুহাম্মদ আব্বাসের বলে বিলাসী শট খেলতে গিয়ে ৬৭ বলে ৩৩ রানে ক্যাচ দেন।এরপর একটি চার ও একটি ছক্কায় ১০ রান করে ইমাম–উল–হকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তিনিও হন আব্বাসের শিকার। একই বোলারের বলে পুল করতে গিয়ে ২৩ বলে ১৭ রান করা তাইজুল ইসলাম ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানকে। অল্প সময়ের ব্যবধানে মুশফিকুর রহিম ও এবাদত হোসেনের বিদায়ে বাংলাদেশের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে মুশফিকের সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগলেও বিরতির পর তৃতীয় বলেই শাহিন আফ্রিদির দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন তিনি। ভেতরে ঢোকা বল ভেঙে দেয় তার স্টাম্প। এর আগে ফিফটি করে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪২টি পঞ্চাশোর্ধ্ব টেস্ট ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়েন মুশফিক।পরের ওভারেই ১০ বল খেলে রানের খাতা না খুলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন এবাদত। শেষদিকে ৩৯ বলে ২৯ রানের জুটি গড়েন তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা। এর মধ্যে রানার অবদান ছিল ৪ রান। বাকিটা আসে তাসকিনের মারমুখী ব্যাটে। ইনিংসে পাকিস্তানের সেরা বোলার মুহাম্মদ আব্বাসকে ছক্কা হাঁকিয়ে দলীয় রান ৪০০ পার করেন তিনি। শাহিনের বলে আউট হওয়ার আগে ৩ চার ও এক ছক্কায় ২৮ রান করেন তাসকিন।দ্বিতীয় দিনের দেড় সেশনে বাংলাদেশ ১১২ রান যোগ করতে হারিয়েছে বাকি ৬ উইকেট। ৩৯তম জন্মদিনে মুশফিকের ১৭৯ বলে ৮ চারে ৭১ রানের ইনিংস এবং লিটনের ৩৩ রান ছাড়া বড় কোনো অবদান আসেনি। শেষদিকে তাসকিনের ২৮ রানের ক্যামিও ইনিংসেই ৪১৩ রানে পৌঁছায় বাংলাদেশ।জবাবে পাকিস্তানের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে দারুণ শুরু করেন আজান এওয়াইস ও ইমাম–উল–হক। বিশেষ করে আজান খেলেছেন আত্মবিশ্বাসী ইনিংস। অভিষেক ম্যাচেই তুলে নেন ফিফটি। দিনশেষে তিনি ৮৫ রানে অপরাজিত আছেন। আরেক অভিষিক্ত ব্যাটার আবদুল্লাহ ফজল অপরাজিত আছেন ৩৭ রানে।পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২২ ওভার। দিনের একমাত্র উইকেটটি নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে ৪৫ রানে ফেরান ইমাম–উল–হককে। তার বিদায়ে ভাঙে ১০৬ রানের উদ্বোধনী জুটি।