এনামুল হক রাশেদী,চট্টগ্রাম >>> অনলাইন হয়রানি থেকে নারীদের সুরক্ষা দিতে ‘সাইবার সাপোর্ট ডেস্ক’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেছেন, নারীরা যাতে নিঃসংকোচে অনলাইনভিত্তিক অপরাধের অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য নারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিশেষ এই ডেস্ক পরিচালনা করা হবে।গণমাধ্যম কর্মিদের সাথে নগরের অপরাধ পরিস্থিতি, যানজট, কিশোর গ্যাং, মাদক ও চাঁদাবাজি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন সিএমপি কমিশনার।তিনি বলেন, আগের তুলনায় অপরাধের ধরন অনেক বদলে গেছে। এখন অনেক অপরাধ অনলাইনে সংঘটিত হচ্ছে এবং অপরাধীরা প্রযুক্তি ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কম সময়ে সংগঠিত অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।হাসান মো. শওকত আলী বলেন, “অনলাইনে নীরবে অনেক অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, যার অন্যতম ভুক্তভোগী নারীরা। অনেক সময় তারা এসব বিষয় কাউকে বলতে পারেন না। এজন্য আমরা ‘সাইবার সাপোর্ট ডেস্ক’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছি।”তিনি জানান, এ ডেস্কে নারী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে ভুক্তভোগীরা স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন। অভিযোগ পাওয়ার পর কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘কিশোর গ্যাং’ অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন সিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, “কিশোরদের মধ্যে এক ধরনের ফ্যান্টাসি ও হিরোইজম কাজ করে। সেখান থেকে তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এটি সামাজিক অপরাধ। একে প্রতিরোধে পারিবারিক সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ জরুরি।”সম্প্রতি চকবাজার এলাকায় এক কলেজছাত্র হত্যার ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।মাদক নিয়ন্ত্রণেও পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান শওকত আলী। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে।”চট্টগ্রামে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ বাহিনীর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার মূল টার্গেট চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করা। সন্ত্রাসীরা কোন পথে এগোচ্ছে, তা আগে শনাক্ত করতে হবে। এজন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।”তিনি বলেন, “বায়েজিদ এলাকায় সাজ্জাদ বাহিনীর তৎপরতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। আমরা আরও কার্যকর ফলাফল চাই।”অপরাধ দমনে নগরজুড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে সিএমপি কমিশনার বলেন, “অপরাধ ও ছিনতাইপ্রবণ এলাকাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। এ কাজে সিটি করপোরেশন ও সিএমপি যৌথভাবে কাজ করবে।”যানজট নিরসনে বিভিন্ন সড়ক থেকে হকার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি নগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে সিগন্যাল লাইটের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।উল্লেখ্য, হাসান মো. শওকত আলী গত ১ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ৩৪তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।