আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব-৭) এক ঝটিকা অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে বাঁশখালী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে স্থাপিত বিশেষ চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে ১ লক্ষ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাও জব্দ করেছে র্যাব।
আটককৃতরা হলেন-কক্সবাজার জেলার মহেশখালী থানার গোনাপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল নবীর ছেলে মোঃ সলিম উল্লাহ (৪৩), কুতুবজুম এলাকার মৃত আনসারুল হক শিকদারের ছেলে মোঃ হাসান মুরাদ (৪৮) এবং একই এলাকার মৃত কবির আহম্মেদের ছেলে মোঃ মজিদ আলম প্রকাশ মরজান (৩৫)।
র্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদ ছিল যে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একটি বড় মাদকের চালান সিএনজিযোগে বাঁশখালী হয়ে চট্টগ্রামের দিকে আসছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বাঁশখালী মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে।
র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সিএনজি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করার সময় হাতেনাতে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে সিএনজিটিতে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, মাদক কারবারিরা অত্যন্ত সুকৌশলে গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে ইয়াবাগুলো লুকিয়ে রেখেছিল। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ১ লক্ষ পিস ইয়াবা, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে র্যাবের এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই বিষয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)খালেদ সাইফুল্লাহ জানান,র্যাব কর্তৃক ইয়াবাসহ আটককৃত তিন আসামিকে আজ সকালে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘ দিন ধরে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে মাদক পাচার করে আসছিল। আজ দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
বাঁশখালী সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার রোধে পুলিশি টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।