চাটখিল (নোয়াখালী) প্রতিনিধি।। নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার পরকোট ইউনিয়নের হোসেনপুর গোলাপ ভুঁইয়া বাড়ির মরহুম মনির হোসেনের স্ত্রী নাছিমা বেগম স্বামীর ভিটেমাটি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার অভিযোগ করেন দেবর আবু তাহের লিটনের বিরুদ্ধে।নাছিমা বেগম বলেন, পুরাতন বাড়ির সামনে স্বামীর পৈতৃকসূত্রে পাওয়া জমিতে মাটি ভরাট ও ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। তিন কন্যা ও স্বামীকে নিয়ে বেশ সুখেই দিন যাচ্ছিলো। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছে। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস ২০১৫ সালে আমার স্বামী মনির হোসেন মৃত্যুবরণ করেন।স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই দেবর আবু তাহের লিটন ও তার পরিবার প্রতিনিয়তই আমাদের উপর মানষিক নির্যাতন শুরু করেন। লিটনের নির্যাতনের শিকার হয়ে একসময় ৩ কন্যা সম্তানকে নিয়ে স্বামীর বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র বাসা ভাড়ায় চলে যেতে বাধ্য হই এমনকি ১১ বছর ধরে বাসা ভাড়া নিয়ে অন্যের বাড়িতে বসবাস করে আসছি। লিটনের অত্যাচারে স্বামীর বাড়ি-ঘরে যেতে পারিনা। এছাড়াও স্বামীর পুরাতন বাড়ির অংশের গাছের ফল-মূল, পুকুরের মাছ,গাছপালার ভাগের অংশ না দিয়ে জোরপূর্বক লিটন নিজেই সবকিছু ভোগ দখল করেন বলেও জানান ভুক্তভোগী নাছিমা বেগম ।নাছিমা বেগম আরও জানান স্বামীর অংশের ভাগ চাইতে গেলে লিটনের পরিবার আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা,মারধর, গালমন্দসহ নানা ধরনের পাশবিক নির্যাতন চালায়।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিধবা নারী নাছিমা বেগমের স্বামীর বসত ভিটায় পরিত্যক্ত একটি ঘর রয়েছে, অতীতে বসবাস থাকলেও বর্তমানে ঘরটিতে কেউ বসবাস করে না যা দেখেই বুজা যায়, ঘরের ভিতরে নেই খাট,আলমারি বা আসবাবপত্র। দরজা, জানালা, চালের টিনগুলো যেন হেলেদুলে নুয়ে পড়ছে। বসতঘরের এমন পরিস্থিতি দেখে নাছিমা বেগমের বড় মেয়ে খাদিজাকে প্রশ্ন করা হলে- খাদিজা বলেন ২০২৩ সালে আমরা বাড়িতে নারিকেল ও আম পাড়তে আসলে আবু তাহের লিটন ও তার ৩ ছেলে মিলে আমাদেরকে মেরে রক্তাক্ত, ফুলা জগম ও গুরুতর আহত করে। এ ব্যাপারে চাটখিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে স্থানীয় মেম্বারের নেতৃত্বে থানায় সালিসি বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। উক্ত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় আমাদের জায়গা সম্পত্তি বুঝিয়ে দিবে এবং ভবিষ্যতে খারাপ আচরণ ও মারামারি করবেনা মর্মে স্টাম্পে লিখিত হয়। সালিশে মিটমাট হওয়ার পর থেকে আমরা বাড়িতে আসলে লিটনের পরিবার আমাদের ওপর হামলা করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।এ ব্যাপারে আবু তাহের লিটনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন- আমরা পুরাতন বাড়িতে থাকি বড় ভাইয়ের পরিবার নতুন বাড়িতে থাকতো। এখন তারা চাটখিলে ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। এছাড়াও তাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে কোন ধরনের হামলা বা ঝগড়া হয়নি।তিনি আরও বলেন আমার ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানরা আমাদের ২ ভাইয়ের কাছে তাদের পাওনা সম্পতি বিক্রি করে দিয়েছে। বায়না পত্র ও স্টাম্পের মাধ্যমে তাদের সাথে টাকা লেনদেন করা হয়েছে। এখন তারা অস্বীকার করছেন বলেও জানান আবু তাহের লিটন।সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আবু তাহের লিটন বলেন জমি রেজিষ্ট্রি হয়নি।নাছিমার বড় মেয়ে খাদিজা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের নিকট আবেদন জানিয়েছেন যেনো তারা বাবার বাড়িতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতে পারে, সে ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেন। সুষ্ঠু তদন্ত স্বাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।