আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। চট্টগ্রামের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সাতকানিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন দেখে কৃষকের চোখেমুখে যে হাসির ঝিলিক ছিল,গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর দমকা হাওয়ায় তা এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে। সোনালি ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে প্রকৃতির এই তাণ্ডব কৃষকদের স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নে রূপ দিয়েছে।
আজ বুধবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ পাকা ও আধাপাকা ধান গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে ফসল।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের অসহায়ত্বের কথা,কাঞ্চনা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুস শুকুর জানান, গত তিন দিন ধরে বাতাস আর বৃষ্টি একসাথে চলায় আমার সব ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ফসল কাটার আগমুহূর্তে এই ক্ষতি মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর। মাটিতে পড়ে যাওয়ায় ধানের মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পুরানগড় ইউনিয়নের কৃষক মো. হারুনুর রশীদ বলেন,পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টির পানিতে নিচু এলাকার ধান ডুবে গেছে। মজুর নিয়ে ধান কাটার সুযোগও পাচ্ছি না। লাভের আশায় চাষ করেছিলাম, এখন পুঁজি বাঁচানোই দায়।
এওচিয়া ইউনিয়ন,কৃষক জাফর আলম আক্ষেপ করে বলেন,বাতাসের তীব্রতায় ধান ঝরে পড়ছে। যেসব ধান এখনো কাঁচা, সেগুলো মাটিতে পড়ে পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমাদের সারা বছরের খোরাক এখন অনিশ্চিত।
সোনাকানিয়া ইউনিয়নের,কৃষক আব্দুল মাবুদ জানান,বিলে পানি জমে যাওয়ায় ধান কাটতে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। একদিকে ধানের দাম নিয়ে চিন্তা, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সব মিলিয়ে আমরা দিশেহারা।
সাতকানিয়া সদর এলাকার কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন,সদর এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে বৃষ্টির পানি সরছে না। অনেক শ্রম আর স্বপ্ন নিয়ে বোরো আবাদ করেছিলাম, এখন সেই স্বপ্ন কাদাজলে মিশে যাচ্ছে।
উপজেলায় ফসলের এই আকস্মিক ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন,
গত কয়েকদিনের বৈরী আবহাওয়ায় উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় বোরো ধানের আংশিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব ধান ৮০% পেকে গিয়েছিল, আমরা কৃষকদের সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছি। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।
বর্তমানে আকাশ মেঘলা থাকায় এবং আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক কৃষক বৃষ্টির মাঝেই ভিজে ভিজে আধাপাকা ধান কেটে বাড়িতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে শ্রমিকের সংকট এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান মাড়াই ও শুকানো নিয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে যেন তাদের দ্রুত প্রণোদনা বা সহযোগিতা প্রদান করা হয়, যাতে তারা পরবর্তী আমন মৌসুমের প্রস্তুতি নিতে পারেন।