আব্দুল্লাহ আল মারুফ >>> চট্টগ্রামের পটিয়ায় আইসক্রিম কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ সোলাইমানকে (৪২) আসামি করে পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর মা। অভিযুক্ত সোলাইমান একই বাড়ির ভাড়াটিয়া বলে জানা গেছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পটিয়া উপজেলার একটি ভাড়া বাড়িতে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার এবং অভিযুক্ত সোলাইমান দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন। গত ১৭ মার্চ শিশুটির বাবা-মা কর্মস্থলে থাকার সুযোগে সোলাইমান তাকে আইসক্রিম ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে পাশবিক নির্যাতন করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।ঘটনার দুই দিন পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারেন অভিযুক্তের স্ত্রী। তবে ঘটনা জানাজানি হলে বিপদে পড়ার ভয়ে তিনি শিশুটির পরিবারকে কিছু টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। লোকলজ্জা এবং প্রমাণের অভাবে শুরুতে বিষয়টি গোপন থাকলেও সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে আসে।গত ঈদুল ফিতরের পর বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সোলাইমানের পরিবারের সাথে শিশুটির মায়ের বাকবিতণ্ডা হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে শিশুটি তার মায়ের কাছে সেদিনের সেই ভয়াবহ নির্যাতনের কথা বলে দেয়। গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় এ নিয়ে এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভুক্তভোগীর মা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চান।অত্র এলাকার বাসিন্দা আবু মূসা বলেন,আমরা কল্পনাও করতে পারিনি আমাদের পাশেই এমন একজন মানুষরূপী পশু বাস করছে। ঘটনার পর থেকে সোলাইমান পলাতক। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাহস না পায়।আমরা চাই পুলিশ দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনুক।পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শিশুটির জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত সোলাইমান বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।