আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। দেশের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)-এর যুগ্ম সচিব নুরুল আবছার চৌধুরী দীর্ঘ চাকরি জীবনে পদোন্নতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন। অবসরের প্রাক্কালে নিজের ন্যায্য অধিকার, পদমর্যাদা এবং বকেয়া পাওনা নিশ্চিতের দাবিতে বর্তমান সিসিসিআই প্রশাসকের নিকট একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জমা দেওয়া ওই আবেদনে তিনি গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ার বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন।
অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ >>>
দীর্ঘকাল একই পদে স্থবিরতা: আবেদন সূত্রে জানা যায়, নুরুল আবছার চৌধুরী ২০০১ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী সচিব হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৫ সালে উপসচিব এবং ২০১০ সালে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পান। তবে এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর ৫ মাস অতিবাহিত হলেও তাকে আর কোনো পদোন্নতি দেওয়া হয়নি।
ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন >>
২০১৭ সাল থেকে এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চেম্বারের সচিব পদটি শূন্য থাকায় তিনি ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে কোনো আর্থিক সুবিধা বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতির উদাহরণ >> আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালে যোগদান করা এক প্রকৌশলীকে মাত্র ২ বছর ১ মাসের ব্যবধানে বিধি বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হলেও তার ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা >>> গত বছরের (২০২৫) ২৭ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিসিসিআই কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে চেম্বার কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশনা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অবসরের প্রাক্কালে দাবি >>
উল্লেখ্য যে, আগামী ১৯ জুন ২০২৬ তারিখে নুরুল আবছার চৌধুরী ৬০ বছর পূর্ণ করে অবসরে যাচ্ছেন। দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেওয়ার পর, শেষ সময়ে এসে তিনি অতিরিক্ত সচিব ও মহাসচিব পদে পদোন্নতি এবং প্রাপ্য বকেয়া (এরিয়ার) পরিশোধের জন্য প্রশাসকের কাছে মানবিক ও আইনি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চেম্বার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একজন দীর্ঘকালীন কর্মকর্তার এমন অভিযোগ সংগঠনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ওপর প্রশ্ন তুলছে। এখন দেখার বিষয়, বর্তমান প্রশাসক এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।