মোঃ দিদারুল ইসলাম, চট্টগ্রাম >>> বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম বাকলিয়ার রসুলবাগ আবাসিক এলাকায় চাক্তাই ডাইভারশন খাল (বির্জা খাল) ঘিরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খালের দুই পাড়ে প্রায় চার শতাধিক ভবনে বসবাসকারী আড়াই হাজার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বর্ষা এলেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালটির উত্তর ও দক্ষিণ পাড়জুড়ে রয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থান। তবে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই সামান্য বৃষ্টিপাতেই খাল উপচে পড়ে আশপাশের বসতবাড়ি, দোকানপাট, সড়ক ও অলিগলি প্লাবিত হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী।সরেজমিনে দেখা গেছে, খালটি বর্তমানে ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন, পলি ও কচুরিপানায় ভরাট হয়ে আছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় স্থির কালচে পানিতে বর্জ্য ভাসছে। এতে খালটি মশার নিরাপদ প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর খালপাড় দিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।রসুলবাগ আবাসিক এলাকার মহল্লা কমিটির সাবেক সভাপতি হাজী মোহাম্মদ এয়াকুব ও বায়তুল মামুর জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি প্রফেসর নুরুন্নবী জানান, বর্ষায় খাল উপচে পড়ে এবং শুষ্ক মৌসুমে এটি মশার উপদ্রব বাড়ায়। ফলে সারাবছরই দুর্ভোগে থাকতে হয়। খাল সংস্কার ও বর্জ্য অপসারণে বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এলাকার পরিত্যক্ত একটি জায়গায় ময়লা ফেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নাগরিকদের সাথে চসিক মেয়রের ক্ষিন দ্বন্ধ ও ভুল বুঝাবুঝির কারনও এ এলাকার প্রতি সিটি কর্পোরেশনের অবহেলার অন্যতম একটি কারন হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।১৭ নং ওয়ার্ড ‘র প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেন লেদু জানান, চাক্তাই ডাইভারসন খালের মাস্টার প্লান সংস্কারের কাজ চলমান থাকায় রসুলবাগ অংশে জমে থাকা কচুরিফানার স্তুপ আপাতত জমে থাকলেও দ্রুত সময়ে খালের সংস্কার কাজ সমাপ্ত হলে খালের কচুরিফানা ও ময়লার স্তুপ আর জমে থাকবেনা, আর মশা নিধনের জন্য সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত স্প্রে করছে বলেও জানান। তিনি আরো জানান, খালের সম্পুর্ন অংশ সংস্কার কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় অধিবাসিদের সাময়িক ভোগান্তি হলেও সংস্কার কাজ শেষ হলে এসব সাময়িক ভোগান্তি থেকে নাগরিকরা রেহাই পাবে বলেও জানান তিনি।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খাল-নালা পরিষ্কারের নামে ১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বেশি ব্যয় দেখানো হয়েছে। ৪১টি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মোটা অঙ্কের বিল দেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘শিরোপা ট্রেডার্স’ রসুলবাগসহ বিভিন্ন খালে কাজ দেখিয়ে কয়েক ধাপে কোটি টাকার বেশি বিল উত্তোলন করেছে।তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, “কাগজে কাজ শেষ হলেও বাস্তবে খালের কোনো পরিবর্তন হয়নি।” তাদের দাবি, চসিকের কিছু কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের যোগসাজশে এসব অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে চসিক সম্প্রতি সরকারের কাছ থেকে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এ অর্থে ৫০০টি নালা পরিষ্কারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, ১৮ এপ্রিল থেকে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে খাল-নালা খনন কার্যক্রম শুরু হবে।তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, অতীতের মতো এবারও কার্যক্রম কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকলে আগামি বর্ষায় আবারও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হবে স্থানীয় অধিবাসিগন।রসুলবাগ এলাকার সচেতন নাগরিকরা জানান, বিগত বর্ষা মৌসুমে খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু হলেও অজ্ঞাত কারণে তা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত সিটি কর প্রদান করেও তারা জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব, গ্যাস ও সুপেয় পানির সংকটসহ মৌলিক নাগরিক সেবায় অবহেলার শিকার হচ্ছেন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তাদের দুর্ভোগ দিন দিন আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।