আব্দুল্লাহ্ আল মারুফ।। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ বাগদা চিংড়ির রেণু ও ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকার মাছ জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। এ সময় একটি মাছ ধরার বোট আটকসহ সংশ্লিষ্ট মালিককে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৭ এপ্রিল শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন এলাকা এবং কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে এই অভিযান পরিচালিত হয়। জব্দকৃত রেণুগুলো পরে নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে শাহ আমানত সেতু এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসানো হয়। এ সময় টেকনাফ থেকে খুলনাগামী দুটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ পিস অবৈধ বাগদা চিংড়ির রেণু উদ্ধার করা হয়। বাজারমূল্যে যার আনুমানিক দাম ৬ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, রাত আড়াইটার দিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করার অপরাধে নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। অভিযানে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের মাছসহ একটি বোট আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বোট মালিককে নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কর্ণফুলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল আলীম জানান,অবৈধভাবে রেণু আহরণ ও পরিবহন মৎস্য সম্পদের জন্য হুমকিস্বরূপ। জব্দকৃত রেণুগুলো আমরা রাতেই নদীতে অবমুক্ত করেছি এবং মাছের একাংশ এতিমখানায় দান করে বাকি অংশ নিলামের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছি। জনস্বার্থে এবং মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আমাদের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
অভিযান সফল হলেও স্থানীয় সচেতন মহল স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। কর্ণফুলী নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির এক নেতা বলেন,কোস্টগার্ডের এই তৎপরতা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে শুধু মাঝপথে আটক করলে হবে না, রেণু আহরণের মূল উৎসগুলোতেও নজরদারি বাড়াতে হবে। অনেক সময় দরিদ্র জেলেরা মহাজনদের দাদন বা চাপের মুখে পড়ে এই নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হয়। যদি বিকল্প কর্মসংস্থান বা সচেতনতা বাড়ানো যায়, তবেই কর্ণফুলীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
জব্দকৃত মাছের একটি অংশ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে এবং বাকি অংশ ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকায় প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে সরকারি তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।