রুপম চাকমা বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি >>> পাহাড়ি জনপদে বর্ণাঢ্য আয়োজনে তিন দিনব্যাপী বিজু উৎসব আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি আদিবাসিদের অন্যতম প্রধান এই উৎসবটি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।১২ এপ্রিল ২০২৬ উৎসবের প্রথম দিন ‘ফুল বিজু’ দিয়ে শুরু হয় এই আয়োজন।এদিন ভোরে পাহাড়ি তরুণ-তরুণীরা নদী ও ছড়ার পানি দিয়ে ফুল সংগ্রহ করে ঘরবাড়ি সাজায় এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।১৩ এপ্রিল দ্বিতীয় দিন ‘মূল বিজু’তে ছিল নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রস্তুত, যার মধ্যে পাজন রান্না বিশেষ আকর্ষণ ছিল। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে এসব খাবার বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ আরও বেড়ে ওঠে।১৪ এপ্রিল শেষ দিন ‘গোজ্যেপোজ্যে দিন’ উপলক্ষে আয়োজিত হয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্য ও গান। স্থানীয় শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পিনোন কাদি পরিবেশন করেন পাহাড়ি নৃত্য, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি তরুণদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় খেলাধুলা ও নানা প্রতিযোগিতা।উৎসব উপলক্ষে পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যাতে নির্বিঘ্নে উৎসব উদযাপন করা যায়।বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬নং সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা জানান, বিজু উৎসব কেবল আনন্দের নয়, বরং এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের প্রতীক। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ উৎসব আরও বৃহৎ পরিসরে উদযাপিত হবে এবং পাহাড়ের সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে।তিন দিনের এই আয়োজন শেষে নতুন বছরের প্রত্যাশা নিয়ে পাহাড়ি জনপদে নেমে এসেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, তবে উৎসবের স্মৃতি রয়ে গেছে সবার হৃদয়ে।