নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা।। দেশের কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। ভূমিহীন থেকে শুরু করে বড় পর্যায়ের সব কৃষক, মৎস্যচাষি এবং খামারিদের একই ছাতার নিচে আনতে সরকার প্রবর্তন করছে ‘কৃষক কার্ড’। আগামী পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এই বিশেষ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে কার্যক্রমটি শুরু হলেও আগামী ৪ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি কৃষককে এই ডিজিটাল কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এই সেবা চালু হচ্ছে। এ পর্যায়ে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষক, মৎস্যচাষি, দুগ্ধখামারি ও লবণ চাষীসহ বিভিন্ন শ্রেণির খামারিরা এই কার্ড পাচ্ছেন।
কার্ডের ১০টি বিশেষ সুবিধা
কৃষক কার্ডটি কেবল পরিচয়পত্র নয়, বরং এটি একটি বহুমুখী সেবা গ্রহণের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে। এর উল্লেখযোগ্য সুবিধাগুলো হলো:
নগদ সহায়তা: ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকরা বছরে সরাসরি ২,৫০০ টাকা নগদ আর্থিক সহায়তা পাবেন।
সহজ উপকরণ ক্রয়: নির্ধারিত ডিলারের কাছে থাকা POS মেশিনের মাধ্যমে সার, বীজ, মৎস্য ও প্রাণিখাদ্য সহজে কেনা যাবে। সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় কৃষি বিমার সুবিধা।
যান্ত্রিকীকরণ ও সেচ: স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং ন্যায্য মূল্যে সেচ সুবিধা। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজার দর এবং রোগবালাই দমনে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ। সরকারি ভর্তুকি, প্রণোদনা গ্রহণ এবং সরাসরি ন্যায্য মূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ।
প্রথম পর্যায়ে যেসব এলাকায় শুরু হচ্ছে
প্রাক-পাইলট পর্যায়ে যে এলাকাগুলো নির্বাচন করা হয়েছে সেগুলো হলো:
পঞ্চগড় সদরের কমলাপুর ও বোদার পাঁচপির, বগুড়ার শিবগঞ্জের উথলি, ঝিনাইদহের শৈলকূপার কৃপালপুর, পিরোজপুরের নেছারাবাদের রাজাবাড়ি, কক্সবাজারের টেকনাফের রাজারছড়া, কুমিল্লার অরণাপুর, টাঙ্গাইলের সুরুজ, রাজবাড়ীর তেনাপঁচা, মৌলভীবাজারের ফুলতলা এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি খাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত কৃষকের হাতে সরাসরি সরকারি সেবা পৌঁছে যাবে।