বিএসপি ডেস্ক রিপোর্ট >>> সাবেক স্পিকার ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়ের লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলাটি হত্যা মামলা নয়, অন্য ধারার মামলা।ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, লালবাগ থানার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে। সেই মামলাতেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নেবেন।জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির অনেক শীর্ষ নেতা আত্মগোপনে চলে যান। সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কেউ কেউ গ্রেপ্তার হলেও শিরীন শারমিন চৌধুরী তখন থেকে প্রকাশ্যে আসেননি। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।সরকার পতনের পর কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিসহ শতাধিক মানুষ সেনাবাহিনীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সে সময় শিরীন শারমিন চৌধুরী সেনা হেফাজতে আছেন বলে গুঞ্জন ওঠে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এক স্বর্ণকারিগর গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। পরে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন এবং টানা তিন মেয়াদে জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিন রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন। সংবিধান অনুযায়ী সংসদ ভেঙে গেলেও নতুন স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত পূর্বের স্পিকার দায়িত্বে থাকার বিধান রয়েছে। তবে সে সময়ের ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন।