বিএসপি আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নিখোঁজ মার্কিন পাইলট উদ্ধারের নামে ইরানে অভিযান চালিয়ে দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরি করার চেষ্টা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র—এমন অভিযোগ করেছে ইরান। তবে তাদের দাবি, ইরানি বাহিনী সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইলি বাকাই বলেছেন, “পাইলট উদ্ধারের অভিযানটি পুরোপুরি ভুয়া ছিল। এর আড়ালে মূল লক্ষ্য ছিল আমাদের দেশ থেকে ইউরেনিয়াম চুরি করা। কিন্তু তারা সফল হতে পারেনি।”
এর আগে ইরান দাবি করেছিল, নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারের মার্কিন অভিযান তারা প্রতিহত করেছে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পর নতুন করে অভিযোগ তুলে তেহরান বলছে, ওই অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু পাইলট উদ্ধার নয়, বরং ইরানের মাটিতে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল।
বাকাইয়ের দাবি, মার্কিন বাহিনীর একটি এফ–১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানোর পর পাইলট বয়ার–আহমেদ প্রদেশের কোগিলুয়ে এলাকায় আশ্রয় নেন। কিন্তু মার্কিন বাহিনী মধ্য ইরানের একটি এলাকায় নামার চেষ্টা করেছিল, যা পাইলটের অবস্থান থেকে অনেক দূরে। এ কারণেই তেহরানের সন্দেহ, উদ্ধার অভিযানের আড়ালে অন্য কোনও লক্ষ্য ছিল।
ইরানের হাতে বর্তমানে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে ধারণা করা হয়, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য। এই ইউরেনিয়াম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল যাতে তারা ইউরেনিয়াম কর্মসূচি সীমিত করে। ইরান রাজি না হলে বলপ্রয়োগ করে ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
এদিকে মার্কিন বাহিনীর ওই অভিযানে বড় ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হয়। বিভিন্ন সূত্র বলছে, ইরানে প্রবেশ করে বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটকে উদ্ধার করে নিয়ে যেতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অন্তত একটি, সম্ভবত দুইটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে ফেলে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, পাইলট উদ্ধার অভিযানের সময় ইরানের মরুভূমিতে অস্থায়ী এয়ারফিল্ড তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে অবতরণের পর একটি বা দুইটি মার্কিন বিমান প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা বালিতে আটকে পড়ায় আর উড়তে পারেনি। এ সময় ইরানি সেনারা ওই এলাকায় এগিয়ে আসছিল বলে খবর পাওয়া যায়।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে মার্কিন বাহিনী অন্য যুদ্ধবিমান ডেকে এনে সদস্যদের সরিয়ে নেয় এবং ইরান ত্যাগের আগে অকেজো হয়ে পড়া বিমানগুলো ধ্বংস করে দেয়। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের হাতে গোপন প্রযুক্তি ও তথ্য চলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ইরানের কিছু স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে মরুভূমিতে আধপোড়া বিমান ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এটি লকহিড মার্টিনের এমসি–১৩০জে কমান্ডো–২ ধরনের বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত বিমান, যার মূল্য প্রায় ১০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০০ কোটি টাকা)।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের এই অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ আনন্দবাজার.কম