নিজস্ব প্রতিবেদক >>> ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার চালানো সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ হামলায় কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার চালানো এই হামলায় রাশিয়া প্রায় ৫০০-এর বেশি ড্রোন এবং কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী। ক্যাথলিক ইস্টারের আগে রাশিয়ার এই হামলাকে ‘পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার প্রচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, রাশিয়ার হামলায় অসংখ্য আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহুতল ভবনের ধ্বংসাবশেষ রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া সিভিরিদেঙ্কো জানান, কিয়েভ অঞ্চলের ওবুখিভে একটি আবাসিক ভবনে ড্রোন হামলা হয়েছে। এছাড়া ভিশনেভে একটি কিন্ডারগার্টেন ও স্কুলের মধ্যবর্তী স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে আশেপাশের ঘরবাড়ি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।আঞ্চলিক গভর্নর মিকোলা কালাশনিক জানান, রাজধানী কিয়েভে হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাশিয়ার এই নৃশংসতা থেকে রেহাই পায়নি প্রাণীরাও। একটি পশু চিকিৎসালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে অন্তত ২০টি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে।কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, হামলার প্রাণহানির চিত্র নিম্নরূপ: সুমি অঞ্চল: ৩ জন নিহত।ঝিতোমির ও দনিপ্রোপেত্রোভস্ক: ২ জন নিহত।সীমান্তবর্তী অঞ্চল (খারকিভ, দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া): মোট ৮ জন নিহত।প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ক্ষোভ হামলার পর এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন,পবিত্র ইস্টারের আগে আকাশে নীরবতা বজায় থাকা উচিত ছিল। কিন্তু রাশিয়া হামলা তীব্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।”তিনি এই হামলাকে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা বিএসএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করছে রুশ বাহিনী। এই হামলার ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।