মোঃ সাইফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। নতুন আশা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে প্রণীত হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ। এই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না।বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা আয়োজিত রুকন (সদস্য) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরী আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমদ, মহানগরী নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুল কাইউম, মহানগর সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন এবং জেলা সহকারী সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুন্না প্রমুখ।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, জনগণ আর ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায় না। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর স্বপ্ন মানুষের মনে জাগ্রত হয়েছে, সেই প্রত্যয়কে ধারণ করেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়েছে। ঐ কমিশনের প্রধান সুপারিশ ছিল দুর্বৃত্তায়িত রাষ্ট্র কাঠামোর পরিবর্তন করে জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার আলোকে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করা। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামোর বিলোপের জন্য সংবিধান সংস্কার অপরিহার্য।তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। দেশের সত্তর শতাংশ মানুষের ভোটের মূল্যায়ন না করে গুম-খুন বিলোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো বাস্তবায়নেও তারা অনীহা দেখাচ্ছে। এতে প্রশ্ন জাগে—তারা কি আবারও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামোর দিকে ফিরে যেতে চায়? জনগণের মতামত উপেক্ষা করে পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চাইলে রাজপথেই সেই দাবি আদায় করা হবে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাইফুল আলম খান মিলন এমপি বলেন, বিএনপি বর্তমানে জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান করছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পরিবর্তে বিভিন্ন স্থানে দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হচ্ছে, যা রাষ্ট্র কাঠামোকে দুর্বল করে এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে। তিনি বলেন, বিএনপি যদি গণতান্ত্রিক পথ পরিহার করে কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ধাবিত হয়, তবে তাদের পূর্বের ফ্যাসিবাদী শাসকদের পরিণতির কথা স্মরণ করা উচিত।সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী আন্দোলন। এই আন্দোলনের সদস্যদের কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তিনি রুকনদের কুরআন, হাদিস ও ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন করে সে অনুযায়ী নিজেদের চরিত্র গঠনের আহ্বান জানান।