আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতিতে ব্যাপক অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার এই প্রবণতা বিশেষ করে সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশি দেখা গেছে, যা সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি চরমে তুলেছে।উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির পর সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অফিস সময় নির্ধারণ করা থাকলেও সাতকানিয়ায় তা কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে।রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে সরেজমিনে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখা যায়, সকাল ৯টায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল অতি নগন্য। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের এক থেকে দুই ঘণ্টা পর অফিসে আসছেন। সকাল ১০টা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও নিজ আসনে পাওয়া যায়নি বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে।
তদন্তকালে অফিসে অনুপস্থিত পাওয়া গেছে-উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নিলয় বিশ্বাস,উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা মৌসুমি,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নুরুল ইসলাম,উপজেলা সমবায় অফিসার বিজয় কৃষ্ণ নাথ,উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দীন,উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার দেলোয়ার হোসেন,উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার সেলিম হেলালি,বিএডিসি অফিসার ইকবাল,পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম,পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রিয়তোষ চৌধুরী,ভূমি অফিসের অফিস সহকারী কামরুল ও সার্ভেয়ার সরদার জাহাঙ্গীর,পৌর হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন।তবে এর বিপরীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে। সেখানে চিকিৎসক ও কর্মচারীরা সঠিক সময়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে সেবা প্রদান করছেন।অনুপস্থিতির বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পৌর হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জানান, তিনি ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিলেন এবং দূরত্ব বেশি হওয়ায় ফিরতে দেরি হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দীন জানান, দাপ্তরিক কাজে তিনি বর্তমানে কোর্ট বিল্ডিংয়ে অবস্থান করছেন। তবে অধিকাংশ কর্মকর্তা ফোন ধরেননি অথবা সংযোগ পাওয়া যায়নি।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, জেলা পর্যায়ের মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি পরে খতিয়ে দেখে জানাবেন।অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।