আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজ জন্মদাত্রী মাকে দা দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। ২৪ মার্চ (মঙ্গলবার) দুপুরে উপজেলার চরতী ইউনিয়নের সুইপুরা গ্রামের ০৯নং ওয়ার্ডের ‘কোরবান আলী বর বাড়িতে’ এই অমানবিক ঘটনা ঘটে।
আহত ওই নারীর নাম কমরুন্নাহার বেগম (৩৯)। তিনি সৌদি প্রবাসী ইয়াকুব মিয়ার স্ত্রী। বর্তমানে তিনি সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ছেলে মোহাম্মদ হোসেন (২৫) ও পুত্রবধূ সুরাইতুন্নেছা শাপলার (২৪) বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কমরুন্নাহার বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে বসবাস করেন। বড় ছেলে মোহাম্মদ হোসেন বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর প্ররোচনায় মায়ের থেকে পৃথক হয়ে যান এবং বৃদ্ধা মায়ের ভরণ-পোষণ বন্ধ করে দেন। এ নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল।
গত মঙ্গলবার দুপুরে রান্না শেষে বারান্দায় আসার সময় কমরুন্নাহার বেগম তাঁর পালিত একটি হাঁসকে উদ্দেশ্য করে কিছু কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুত্রবধূ শাপলা মনে করেন কথাগুলো তাঁকে বলা হয়েছে। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পুত্রবধূ শাপলা শাশুড়ির চুলের মুঠি ধরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে ছেলে মোহাম্মদ হোসেন ঘর থেকে ধারালো দা নিয়ে এসে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর মায়ের মাথার ডান পাশে সজোরে কোপ মারেন। এতে কমরুন্নাহার বেগমের মাথা গভীরভাবে কেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আহত নারীর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ছেলে ও পুত্রবধূ পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা এই ঘটনা নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নিলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার ও ঘর থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ভুক্তভোগী কমরুন্নাহার বেগম বলেন, “নিজের পেটের সন্তান এমন কাজ করবে তা ভাবিনি। বিয়ের পর থেকেই পুত্রবধূর কথায় ছেলে আমার ওপর অত্যাচার করে আসছিল। আমি এর বিচার চাই।
সাতকানিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা? ওসি)মনজুরুল হক বলেন এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।