কলামিস্ট: শাহাদাত হোসেন তালুকদার।। এত বিশাল সামরিক শক্তিধর ইরান এই দুনিয়ার কেউ আগে কখনো কল্পনাও করতে পারেনি।গত বিশ দিন আগেও মানুষের সচক্ষে দেখা এই বাস্তবতা ছিলো রূপ কথার কল্পকাহিনির মত।সামরিক শক্তিতে এত বলিয়ান সত্ত্বেও যুগযুগ ধরে কঠিন ধৈর্য ও সহনশীলতা তদুপরি ইসলামের শান্তির বাণী মানবতা ও কল্যাণের চর্চা করতে গিয়ে ইরানের এত দেরী।আজকের নিরেট বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে স্বীকার করতে বাধ্য যে ইরান চাইলে কি-না পারে? দৃশ্যত পৃথিবী দেখছে এবং হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে।প্রতিনিয়ত ইরানের নতুন আঙিকের অত্যাধুনিক অস্ত্রের সরব উপস্থিতি বাহ্।যেই অস্ত্র বারুদের সুইচ টিপনির যাদুকরীতে ঝলমলিয়ে জ্বলছে ইসরায়েলের দম্ভ ছাড়িয়ে এখন মানচিত্র রক্ষার সংকটে।মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চোখ রাঙানি আর হুমকি ধামকিতে লাগাতার ইরানের উপুর্যুপরি থাপ্পড় আর কিল-ঘুষি ছিঃ লজ্জা।বলতে গেলে এখন পুরো ইসরায়েলের উপর ইরানের মরন কামড়ে ধুলিস্যাত চূর্ণবিচূর্ণ একটি নরক রাজ্য।আগুনের লেলিহান তান্ডবে ছাইভষ্ম হয়ে ইসরায়েলের করুণ পরিনতি উড়ে যাচ্ছে পুরো পৃথিবীর ঠিকানায়।ইরান চাইলে অনেক আগে পারতো কিন্তু অপেক্ষা করেছেন ধৈর্য সংযম ও বিচক্ষণতার সাথে।হ্যাঁ দুনিয়ার মানুষ দেখছেন ইরান পারে পারছেন এবং পারবেন।এখন বাকি শুধু ইসরায়েলকে গাজার চেহারায় রূপান্তর।এই পর্যায়ে যুদ্ধ থেকে পালানোর রাস্তা খুঁজতে খুঁজতে অনেকটা অশান্তির ক্লান্তিতে প্রলাপের আশ্রয় নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ট্রাম্প আগে স্বপ্নেও কল্পনা করেননি সুতার গিঁটে হাতি ধরাশায়ীর ফাঁদ থাকে।বোধহয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে ভেনিজুয়েলা ভেবে বসেছিলেন।যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা গেলো ট্রাম্পের মস্তিষ্কে স্নায়ু যুদ্ধের ঘূর্ণি ফাকের শুরু।নর্তকীর মতো সারা পৃথিবীর দ্বারস্থ হয়েও কারো কোন সারা মিলেনি বেচারা।হালে শুরু উন্মাদের প্রলাপ,হেন করেগা তেন করেগা,আমেরিকা ইরান উভয়ে মিলে হরমুজ প্রণালী পরিচালনা করবো ইত্যাদি।অথচ আমেরিকাকে হরমুজ প্রণালীতে চৌকিদারের চাকরিতেও রাখতেও রাজি হবে না ইরান।আরবের রয়েল পরিবারের জুব্বা পাগড়ীওয়ালাদের মাথায় আজ-ও হুশ বা সুবুদ্ধি আসে না যে ইরান আরবের মুল্লুকের জন্য আসলে কি বা কত গৌরবের জাতি।খুদ আরব জনতার শতে ৯০% ভাগ মানুষ ঈদের চাঁদের আনন্দের মত ইরানের বিজয় দেখতে অধীর আগ্রহে দিন কাটেন।কারন আরবের রাজা বাদশাতন্ত্রে মাথা কেটে ফেলার আইনে আলোচনা কিংবা সমালোচনার জন্য বাকস্বাধীনতার সম্পূর্ণরূপে মানা।শুধু কানে শুনবেন চোখে চেয়ে থাকবেন তার চেয়ে একরত্তির কারো কোন অধিকার নেই নইলে কতল।এবার ঠেলা সামলান ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধের জন্য ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে চাঁদা দাবী করেছেন আরব রাষ্ট্রগুলোর কাছে।এখন কথা হচ্ছে যদি যুদ্ধে হার মানা কিংবা পরাজয়ের জন্য ৫ ট্রিলিয়ন ডলার চাঁদা দাবী করেন, তবে বিজয়ী পক্ষ ইরানের জন্য কত ট্রিলিয়ন বরাদ্দ পাওয়া দরকার আপনার বিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ বিচার বিশ্লেষণে রায় দিন।