নিউজ ডেক্স >>> শুধু নগরীতেই নয়, শহরের বাইরে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে ভিড় জমেছে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে।পারকি সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড়ে প্রাণচাঞ্চল্যঃচট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত পারকি সমুদ্র সৈকত (Parki Sea Beach) দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে গড়ে ওঠা এই সৈকতটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ বনায়ন এবং শান্ত পরিবেশের জন্য ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকতের এক পাশে বিশাল বঙ্গোপসাগর আর অন্য পাশে সারি সারি ঝাউ গাছ এক অনন্য সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে। এখানকার ঢেউ তুলনামূলক শান্ত হওয়ায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য এটি নিরাপদ ও উপভোগ্য স্থান হিসেবে পরিচিত।ঈদের ছুটিতে পারকি সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের ভিড়ে সৃষ্টি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। বিশেষ করে শহর থেকে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় এখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। কেওড়া বনের সৌন্দর্য আর সাগরের মিলিত দৃশ্য উপভোগ করতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। অনেকেই ছবি তোলা, ঘুরে বেড়ানো ও পারিবারিক সময় কাটিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ছিল সক্রিয়।বাঁশখালী ইকো পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ঃঈদের ছুটিকে ঘিরে বাঁশখালী ইকো পার্কে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অনেকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে এখানে ছুটে আসেন। সবুজে ঘেরা পাহাড়ি পরিবেশ, খোলা বাতাস ও শান্ত পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। শিশুদের জন্য খেলার স্থান ও বিশ্রামের ব্যবস্থাও থাকায় এটি হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ তৎপর ছিল।বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে ঈদের আনন্দে মেতে উঠেছে মানুষঃনীরব সৌন্দর্যের এক অনন্য ঠিকানা চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত। ঈদের ছুটিতে বাঁশখালী সমুদ্র সৈকতে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো দর্শনার্থী। সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সৈকতে ছিল মানুষের ঢল। অনেকে সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে বসে উপভোগ করেন প্রকৃতির সৌন্দর্য। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জমজমাট বেচাকেনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড়ঃ
প্রকৃতির অনন্য সৌন্দর্যের ঠিকানা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার উপকূলে অবস্থিত গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত দেশের অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী সমুদ্র সৈকত। স্থানীয়ভাবে এটি ‘মুরাদপুর বিচ’ নামেও পরিচিত। অন্যান্য সমুদ্র সৈকতের মতো এখানে শুধুই বালুকাবেলা নয়—বরং সবুজ ঘাসে মোড়ানো বিস্তীর্ণ প্রান্তর, মাঝখানে জোয়ার-ভাটার পানির খাল এবং দূরে নীল সাগরের মিলন এক ভিন্নরকম দৃশ্য তৈরি করেছে।
সৈকতটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ম্যানগ্রোভ-সদৃশ সবুজ ঘাসের চারণভূমি, যা পর্যটকদের কাছে আলাদা আবেদন সৃষ্টি করে।
গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। সবুজ ঘাসে ঢাকা বিস্তীর্ণ মাঠ ও সমুদ্রের অনন্য সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। অনেকেই এখানে পিকনিক, ফটোসেশন ও অবসর সময় কাটাতে আসেন। তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের নজরদারিও জোরদার ছিল
এছাড়াও শান্ত ও মনোরম পরিবেশের জন্য জনপ্রিয় মহামায়া লেক-এও দেখা গেছে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। বাঁশখালীর বৈলগাঁও চা বাগান ও ফটিকছড়ির চা বাগানসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক স্থানে মানুষ খুঁজে নিচ্ছেন নির্জনতা ও প্রশান্তির স্বাদ।
পর্যটন খাতে আশার আলো
গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটন খাতে কিছুটা স্থবিরতা থাকলেও এবার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা গেছে আশাবাদ।
ঈদকে ঘিরে নগরীর আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে আগাম বুকিং বেড়েছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।পর্যটন খাতে আশার আলোঃগত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটন খাতে কিছুটা স্থবিরতা থাকলেও এবার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা গেছে আশাবাদ।ঈদকে ঘিরে নগরীর আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে আগাম বুকিং বেড়েছে। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎপরতাঃবিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই নির্বিঘ্নে সময় উপভোগ করতে পারছেন।কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়ে গেছেঃতবে আনন্দের মাঝেও কিছুটা হতাশার চিত্র দেখা গেছে। আগ্রাবাদের কর্ণফুলী শিশু পার্ক ও চান্দগাঁওয়ের স্বাধীনতা কমপ্লেক্স পার্ক বন্ধ থাকায় অনেক দর্শনার্থী ঘুরে এসে হতাশ হয়েছেন।উৎসবমুখর চট্টগ্রামঃসব মিলিয়ে, ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম যেন এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। শহরের কোলাহল পেরিয়ে মানুষ ছুটে যাচ্ছে খোলা আকাশের নিচে, সমুদ্রের ধারে কিংবা পাহাড়ঘেরা সবুজের মাঝে। পরিবারের হাসি, শিশুদের উচ্ছ্বাস আর তরুণদের আনন্দে মুখর এই নগরী যেন নতুন এক প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আনন্দ, ভালোবাসা আর স্বস্তির খোঁজে—ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম এখন সত্যিই এক জীবন্ত উৎসবের নাম।