আব্দুল্লাহ আল মারুফ।। চট্টগ্রাম নগরের ইতিহাসের সাক্ষী এবং প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু ‘কোর্ট হিল’ এলাকার জিরো পয়েন্ট ফিরে পেয়েছে তার হারানো জৌলুস। দীর্ঘদিন অবহেলায় জীর্ণ হয়ে পড়ে থাকা এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংস্কারের পর এক নতুন নান্দনিক রূপ ধারণ করেছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদুল ইসলাম মিঞার বিশেষ উদ্যোগে সংস্কার কাজ শেষে গত শনিবার (৭ মার্চ) এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “একটি জাতির সংস্কৃতি ও ইতিহাসের শেকড় কতটা গভীরে, তা নির্ধারিত হয় তার ঐতিহ্যের মাধ্যমে। আমাদের ইতিহাস আগামী প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এসব স্মৃতিস্তম্ভ সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”তিনি আরও যোগ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর কোর্ট হিল পরিদর্শনে গিয়ে জিরো পয়েন্টের বেহাল দশা দেখে তিনি এর সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন। চট্টগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু চিহ্নিত করার এই স্তম্ভটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং এটি চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক ইতিহাসের অংশ।জিরো অনুষ্ঠানে জিরো পয়েন্টের ইতিহাস তুলে ধরে জানানো হয় ব্রিটিশ আমলে চট্টগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু এবং দূরত্ব পরিমাপের সুবিধার্থে এই বিন্দুটি নির্ধারণ করা হয়।বাণিজ্যিক সংযোগ: ১৮৬০ সালে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় চট্টগ্রাম বন্দরের যাত্রা শুরুর পর বাণিজ্যিক কার্যক্রমের প্রসারের সাথে সাথে এই জিরো পয়েন্টের গুরুত্ব বাড়তে থাকে।নির্মাণকাল: নব্বইয়ের দশকে বর্তমান কাঠামোটি প্রথম নির্মিত হয়। এরপর ২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ছোটখাটো সংস্কার হলেও বড় ধরনের কোনো আধুনিকায়ন হয়নি।জেলা প্রশাসকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জিরো পয়েন্টকে এখন দর্শনার্থী ও পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। বর্তমানে এটি কেবল একটি মাপকাঠি নয়, বরং নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।পরিশেষে ডিসি জাহিদ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতাকারী সকল কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নগরবাসীকে এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।