মুরাদুল ইসলাম মুরাদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি >>> কুড়িগ্রামের রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলায় প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। আর এই অবৈধ মাটির কারবারিদের অভয় দিয়ে ‘মানবাধিকার কর্মী’ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ উঠেছে আমির হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন অভিযুক্ত আমির।স্থানীয় বাসীর অভিযোগ, নিজেকে কুড়িগ্রাম জেলার মানবাধিকার (NPS) জেলার সাধারন সম্পাদক পরিচয়ে দিয়ে আমির হোসেন এই অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন।অনুসন্ধানে জানা যায়, আগলার চর এলাকায় মাটি কাটার সময় শফিকুল নামের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেন আমির হোসেন। টাকা নেওয়ার বিনিময়ে তিনি আশ্বাস দেন যে, “প্রসাশনিক কোনো সমস্যা হবে না।” ব্যবসায়ী শফিকুল নিজেও আমির হোসেনকে টাকা দেওয়ার বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন।এই অনিয়মের বিষয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘কুড়িগ্রাম টাইমস’এ এ সংবাদ প্রকাশিত হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই আমির হোসেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সংবাদদাতা জহুরুল ইসলাম মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাকে জেলে পাঠানোর হুমকি দেন। একজন পেশাদার সাংবাদিককে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও হুমকির এই ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।এছাড়াও রৌমারী উপজেলার জাতীয় পত্রিকার এক প্রতিনিধির পারিবারিক কবর স্হান মাটি ভরাট করাকালীন সময়ে ওই মানবাধিকার (NPS) আমির হোসেন চাঁদা দাবী করেন।এলাকাবাসীর দাবি, আমির হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অপকর্মের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। মানবাধিকার জেলা সাধারন সম্পাদক লেবাস পরে এমন চাঁদাবাজি ও হুমকির ঘটনায় তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্ত আমির হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছেন।রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ কাওউসার আহমেদ বলেন যে, মানবাধিকার (NPS) পরিচয় দানকারী ব্যক্তির বিষয়ে মৌখিক ভাবে অভিযোগ পেয়েছি এবং বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। তবে লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্হা নেওয়া হবে।