রিপোর্ট আব্দুর রাজ্জাক।। রাজধানী থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক নববাণী’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের পদ থেকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, নীতিবহির্ভূত আচরণ এবং চরম স্বেচ্ছাচারিতার দায়ে মোঃ আতাউর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ৪ মার্চ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এ. এন. এম সলিমুল্লাহ সরকার স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একইসাথে বিষয়টি ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ প্রকাশক এ. এন. এম সলিমুল্লাহ সরকার জানান, গত ৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে আতাউর রহমানকে কেবল মৌখিকভাবে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি প্রকাশকের অনুমতি বা আলোচনা ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো পত্রিকার লোগো পরিবর্তন করেন। এছাড়া প্রকাশকের অগোচরেই বিভিন্ন সম্পাদক, সাংবাদিক ও স্টাফ নিয়োগ এবং কর্মরত অভিজ্ঞ সংবাদকর্মীদের অবৈধভাবে অব্যাহতি দিয়ে নিজস্ব একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেন।নিয়োগ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ উঠেছে, আতাউর রহমান বিজয় টিভির গাইবান্ধা প্রতিনিধি ডিপটি প্রধানকে ‘প্রধান সম্পাদক’ এবং সিলেটের বিতর্কিত ব্যক্তি খায়রুল আলম সুমনকে ‘যুগ্ম সম্পাদক’ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করেন। জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি দেওয়ার নামে তিনি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন, যার কোনো হিসাব মূল প্রতিষ্ঠানের কাছে নেই। এছাড়া মোস্তফা কামাল নামে একজনকে মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে অনলাইন পোর্টাল ও সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলগুলো নিজের দখলে রাখেন।অসুস্থতার সুযোগে দখলদারিত্ব প্রকাশক দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার সুযোগ নিয়ে আতাউর রহমান ও তার সহযোগীরা পত্রিকাটিকে একটি ‘ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে’ পরিণত করেন। অব্যাহতি পত্রে উল্লেখ করা হয়, আতাউর রহমানের কার্যক্রম পত্রিকার মূল নীতি ও স্বার্থের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।রাজনৈতিক পরিচয় ও বিতর্ক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আতাউর রহমানের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে এবং তার পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের অতীত ঢাকতে তিনি গণমাধ্যমের ছদ্মবেশ ধারণ করেন এবং অসুস্থ প্রকাশককে অন্ধকারে রেখে নিজেকে পত্রিকার মালিক দাবি করে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকেন।অব্যাহতি পাওয়ার পর আতাউর রহমান আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৫ মার্চ তিনি প্রকাশকের শান্তিবাগের বাসায় গিয়ে প্রথমে অর্থের প্রলোভন এবং পরে সজোরে হুমকি-ধামকি দেন। বর্তমানে বিভিন্ন ফোন নম্বর থেকে প্রকাশককে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে অসুস্থ সলিমুল্লাহ সরকার এখন নিজ বাড়িতেই জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।উল্লেখ্য, অব্যাহতি পত্রে আতাউর রহমানকে পত্রিকার যাবতীয় নথিপত্র এবং অনলাইন পোর্টালের এক্সেস অবিলম্বে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা অমান্য করে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অসুস্থ প্রকাশকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত আতাউর রহমানের (ফোন নম্বর: ০১৭…০০৫৩) সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ স্বরে বলেন, ‘আমি আপনার সাথে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি না।’ এরপর আর কোনো কথা না বলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।